শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৩

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বহু বিবাহ প্রসঙ্গে

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বহু বিবাহ প্রসঙ্গে ইসলাম বিদ্বেষীদের সমালোচনার জবাব

2 October 2012 at 23:38
Pearl S. Buck একজন বিখ্যাত মহিলা আমেরিকান উপন্যাসিক যিনি ১৯৩৮ সালে সাহিত্যে নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন। উনার উপন্যাস গুলি ১৯০০ সালের চীনের সামাজিক পটভূমির উপর লিখিত। The Good Earth,  East Wind:West Wind, A House divided এই গুলি উনার Best Selling উপন্যাস। Pearl S. Buck এর উপন্যাসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে ১৯০০ সালের দিকে চীনের অনেক ধনী ব্যবসায়ী, বড় বড় আমলা, রাজনীতিবীদরা নিজ স্ত্রী ছাড়াও ঘরে আরো অনেক রক্ষিতা রাখতো। এই রক্ষিতাদের গর্ভে চীনের এইসব ধনী ব্যবসায়ী, বড় বড় আমলা, রাজনীতিবীদদের সন্তানও হত। কিন্তু এই শিশু গুলি কখনই তাদের পিতার পরিচয় পেত না। অনেকটা ঘরের কাজের ছেলের মত তাদের জীবন কাটতো।
পশ্চিম বাংলার একজন জনপ্রিয় উপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় উনার “ প্রথম আলো ” উপন্যাসে ব্রিটিশ ভারতের সময়কাল ১৯০০ সালের দিকে ত্রিপুরার মহারাজ বীর চন্দ্র মাণিক্যের স্ত্রী ব্যতীত যে অনেক গুলি রক্ষিতা ছিল এই তথ্যও খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই রক্ষিতাদের ঘরে বীর চন্দ্র মাণিক্যের অনেক গুলি সন্তানও ছিল যাদের কে বলা হয়ত মহারাজের পৌরষত্ত্বের প্রতীক। “প্রথম আলো” উপন্যাসে এই রক্ষিতাদের যখন বয়স ৪০ পেরিয়ে যেত তখন ত্রিপুরার মহারাজ বীর চন্দ্র মাণিক্য লাত্থি মেরে তার রাজপ্রাসাদ থেকে তাদের কে তাড়িয়ে দিত এই তথ্যও উল্লেখ আছে। এই কাহিনীগুলি কিন্তু আমরা শিক্ষিত সমাজের সবাই জানি যে ১৯০০ সালের দিকেও ভারত, চীন, বার্মায় ধনী ব্যক্তিরা স্ত্রী ছাড়াও অনেক রক্ষিতা রাখত যাদের কে ভদ্র ভাষায় উপ-পত্নী বলা হত। কিন্তু এই তথাকথিত উপ-পত্নীদের না ছিল কোন সামাজিক  স্বীকৃতি না ছিল কোন সামাজিক নিরাপত্তা। এমনকি এই রক্ষিতা বা তথাকথিত উপ-পত্নীদের সন্তানেরাও কোন পিতৃ পরিচয় ছাড়াই বড় হত। যদি ১৯০০ সালের দিকে যদি সমাজপতিরা বিয়ে বহির্ভূত উপায়ে কোন সামাজিক স্বীকৃতি ছাড়াই নারীদের কে এইভাবে ভোগ করে তাইলে একটু চিন্তা করে দেখুন ১৮০০, ১৭০০ সালের দিকে ঐসব দেশে নারীদের কি অবস্থা ছিল। 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বহুবিবাহ নিয়ে ইসলাম বিদ্বেষীরা অনেকেই অনেক কথা বলেন। সীরাত সম্পর্কে সঠিক ধারনা না থাকায় শার্ট প্যান্ট পড়া অনেক মুসলিম যুবকই বিভ্রান্ত হচ্ছে তাদের এইসব কথায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কোন উপ-পত্নী বা রক্ষিতা ছিল না। সীরাত বিশেষজ্ঞরা সর্ব সাকুল্যে একমত যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রী ছিলেন মোট ১১ জন আর প্রথম জীবনে দাসী ছিলেন মোট ২ জন । রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দাসিরা হলেন মিশর বাদশাহ থেকে উপহার হিসাবে প্রেরিত মারিয়া কিবতিয়া এবং বনী কোরাইজা গোত্রের রাইয়ানা বিনতে শামাউন। কিন্তু হিজরি ৭ম ও ৮ম হিজরিতে  রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ২ জন দাসী মিশর বাদশাহ থেকে উপহার হিসাবে প্রেরিত মারিয়া কিবতিয়া এবং বনী কোরাইজা গোত্রের রাইয়ানা বিনতে শামাউন কেও বিয়ে করেছিলেন। তাইলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রীর সংখ্যা হয় মোট ১৩ জন এবং সেই হিসাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কোন দাসী ছিল না। মারিয়া কিবতিয়া এর গর্ভে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একজন পুত্র সন্তান হয়েছিল যার নাম ছিল ইব্রাহিম। ইব্রাহিম কে কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ৩য় পুত্র হিসাবেই ধরা হয়। যদিও  ১ম জীবনে মারিয়া কিবতিয়া ছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দাসী। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রীরা হলেন উম্মুল মুমেনিন বা উম্মতের মাতা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইন্তেকালের পরেও খলিফা হযরত আবুবকর, উমর, ওসমান, আলী,  মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহুর সময়েও উনারা ভাতা পেতেন এবং উনাদের মৃত্যুর পর খলিফা হযরত আবুবকর, উমর, ওসমান রাযিয়াল্লাহু আনহুর ইমামতিতেই উনাদের জানাজা হয়ছিল। অর্থ্যাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কখনই কোন উপপত্নী বা রক্ষিতা ছিল না। কি কারনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই বহুবিবাহ তা নিয়ে আমি এই NOTE এ বিস্তারিত আলোচনা করব।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন নবী ছিলেন। বুখারী মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে একজন নবীর গায়ে মোট ৪০ জন পুরুষের সমান শক্তি থাকে। অনেক নবীর আশ্চর্যজনক শারিরীক শক্তির কথা কোরআন হাদীসে পাওয়া যায়। যেমন দাউদ আলাইহিস সাল্লাম উনার সময়ের কাফের বাদশাহ জালুতকে জিহাদের ময়দানে মাত্র ৩ টা পাথরের টুকরার আঘাতে হত্যা করে ফেলেছিলেন। যদিও বাদশাহ জালুতের পুরা শরীর লোহার বর্ম দ্বারা ঢাকা ছিল। হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম বনী ইসরাইল বংশের এক ব্যক্তিকে বাঁচাতে গিয়ে ফেরাউনের গোত্রের একব্যক্তিকে সামান্য একটা চড় মেরেছিলেন। আর মুসা আলাইহিস সাল্লামের সামান্য একটি চড়ের আঘাতেই ঐ ব্যক্তিটি মারা যায়। খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খননের সময় যেই পাথর সকল সাহাবীরা সম্মিলিত ভাবেও ভাঙতে পারছিল না সেই পাথর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাত্র ৩ টা হাতুড়ির আঘাতে চূর্ন বিচূর্ন হয়ে যায়। মক্কার রুকানা নামক একজন বড় কুস্তিগীর ছিল। যাকে হযরত ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে শুরু করে কেউ কুস্তিতে হারাতে পারেনি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই রুকানা কুস্তীগীরকে পরপর ৩ বার কুস্তিতে হারিয়েছিলেন যা দেখে মক্কার সকল কাফেররাও অবাক হয়ে গিয়েছিল। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শারিরীক শক্তি আমাদের থেকে অনেক অনেক বেশি ছিল এতে কোন সন্দেহ নাই। একজন পুরুষ যদি তার শারিরীক শক্তির তুলনায় একটি বিয়ে করেন তাইলে তো সেই হিসাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আরো অনেক গুলি বিয়ে করার কথা।

এখন আমরা দেখবো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জীবনের বিয়ে গুলি জীবনের কোন কোন পর্যায়ে করেছিলেন এবং ঠিক কি কারনে করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ২৫ বছরের যুবক ছিলেন তখন উনি বিয়ে করেছিলেন খাদিযা রাযিয়াল্লাহু আনহা কে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে বিয়ের সময়  খাদিযা রাযিয়াল্লাহু আনহার বয়স ছিল ৪০ বছর। খাদিযা রাযিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন একজন বিধবা নারী যার আগে ২ টা বিয়ে হয়েছিল। সেই ঘরে খাদিযা রাযিয়াল্লাহু আনহার ২ টি ছেলে ও একটি কন্যা সন্তানও ছিল। খাদিযা রাযিয়াল্লাহু আনহার সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটানা ২৫ বছর সংসার করেন। এই ২৫ বছর পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর কোন নারী কে বিয়ে করেননি। খাদিযা রাযিয়াল্লাহু আনহার সাথে সংসার জীবনের বেশির ভাগ সময়টাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘরের বাইরে কাটাতেন। বিভিন্ন জনকল্যাণ মূলক কাজ ও হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন। খাদিযা রাযিয়াল্লাহু আনহার মৃত্যুর সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বয়স ছিল ৫০ বছর। সেই সময়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ঘরে ৪ জন কন্যা সন্তান ছিল। এই কন্যা সন্তানদের দেখা শুনা করার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিধবা হযরত সাওদা রাযিয়াল্লাহু আনহাকে বিয়ে করেন। হযরত সাওদার বয়স ছিল তখন ৫০ বছর। হযরত সাওদা রাযিয়াল্লাহু আনহার স্বামী সাফওয়ান ইবনে উমায়ের রাযিয়াল্লাহু আনহু একটি পুত্র সন্তান রেখে মারা গিয়েছিলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা কে বিয়ে করেন। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার বিয়ের বয়স নিয়ে সীরাত বিশেষজ্ঞদের মাঝে বিতর্ক আছে। মুসনাদে আহমদে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে বিয়ের সময় আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহাকে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক যুবতী হিসাবেই উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি Google এ The Marriage Age of Ayesha লিখে Search দিলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার বিয়ের বয়স বিষয়ে সীরাত বিশেষজ্ঞদের মতামত পাবেন।  রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার বিয়ের সময়  আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার বয়স নিয়ে সীরাত বিশেষজ্ঞদের মাঝে বিতর্কের কিছু তথ্য আপনারা এই লিংকে ক্লিক করলে পাবেন

অনেকেই বলেন আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহাকে বিয়ে করার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাল্যবিবাহ করতে উম্মাত কে উৎসাহ দিয়েছেন। নাউযুবিল্লাহ। এক আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা ছাড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সকল স্ত্রীই তো ছিল বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা। তাইলে কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মত কে খালি বিধবা/তালাকপ্রাপ্তা নারীদের কে বিয়ে করতে বলেছিলেন ? কখনই নয় বরং কোন সাহাবী বিধবা নারীকে বিয়ে করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ সাহাবীকে জিজ্ঞাস করতেন তুমি কুমারী নারীকে কেন বিয়ে করনি ? আয়েশার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর বিধবা কন্যা হাফসা কে বিয়ে করেন। হযরত হাফসার স্বামী বদর যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। এরপরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিধবা যয়নব বিনতে খুযায়মাকে বিয়ে করেন। যয়নব বিনতে খুযায়মার স্বামী ওহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। বিয়ের সময় যয়নব বিনতে খুযায়মার বয়স ছিল ৩০ বছর। মাত্র ৩ মাস দাম্পত্য জীবন যাপন করার পর যয়নব বিনতে খুযায়মা ইন্তেকাল করেন। এরপরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে সালমাকে বিয়ে করেন। উম্মে সালমার স্বামী ১ টি পুত্র সন্তান রেখে ওহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। বিয়ের সময় উম্মে সালমার বয়স ছিল ৩০ বছর। এরপরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আপন ফুফাত বোন তালাকপ্রাপ্তা যয়নব কে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় যয়নবের বয়স ছিল ৩৭ বছর। যয়নব রাযিয়াল্লাহু আনহার সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিয়ে নিয়ে আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর আপনি এই লিংকে ক্লিক করলেই পাবেন কিছু

বনু মোস্তালিক গোত্র মুসলমানদের কাছে হারার পর বনু মুস্তালিক গোত্রের গোত্রপতি হারিসের কন্যা জুয়াইরিয়াকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিয়ে করেন। জুয়াইরিয়ার স্বামী মুনায়েফ ইবনে সাফোয়ান মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে জুয়াইরিয়াই নিজের ইচ্ছাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বিয়ে করেন। এরপরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু সুফিয়ানের কন্যা উম্মে হাবিবাকে বিয়ে করেন। উম্মে হাবিবার স্বামী উবাইদুল্লাহ ইবনে জাহাশ মুরতাদ হয়ে যাওয়ার কারনে স্বাভাবিক ভাবেই তার সাথে উম্মে হাবিবার ছারাছাড়ি হয়ে যায়। বিয়ের সময় উম্মে হাবিবার বয়স ছিল ৩৬ বছর। এরপরে খয়বারের যুদ্ধে ইহুদীরা পরাজিত হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  ইহুদী নেতা হুয়াই বিন আখতারের কন্যা সাফিয়া কে বিয়ে করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে বিয়ের আগে সাফিয়ার আরো ২ বার বিয়ে হয়েছিল। এরপরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সর্বশেষ বিয়ে হয়েছিল মায়মুনার সাথে। মায়মুনাও একজন তালাক প্রাপ্তা নারী ছিলেন। উনার আগের স্বামী ছিলেন আবু রহম ইবনে আব্দুল উজ্জা। বিয়ের সময় মায়মুনার বয়স ছিল ৩২ বছর। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ২ জন দাসী রায়হানা ও মারিয়া কিবতিয়া যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে নীত হন তখন উনাদেরর বয়স ছিল যথাক্রমে ২৮ বছর ও ২৩ বছর।

আমরা এইখানে দেখতে পাই যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রীদের মধ্যে একমাত্র আয়েশা ছাড়া আর সবাই ছিল বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা। অনেকের আবার পূর্বের স্বামীর ছেলে মেয়েও ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি জৈবিক চাহিদার জন্য বিয়ে করতেন নাউযুবিল্লাহ তাইলে অবশ্যই কুমারী নারীদের কে বিয়ে করতেন। আমাদের দেশেও অনেক ধনী ব্যক্তি উনার ৪০ বছর বয়সে গ্রাম থেকে একটা কুমারী মেয়ে ধরে নিয়ে এসে বিয়ে করে। কুমারী মেয়ে বিয়ে করা হচ্ছে একটা মানুষের Basic instinct. আর কুমারী মেয়ে বিয়ে করা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য কোন কঠিন কাজ ছিল না। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি জৈবিক চাহিদার জন্যই বিয়ে করতেন নাউযুবিল্লাহ তাইলে কেন উনি বিগত যৌবণা বিধবা তালাক প্রাপ্তা নারীদের কে বিয়ে করবেন ?  মক্কী জীবনে কাফেররা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে অনেকবারই বলেছিলেন যে আপনি চাইলে আরবের সবচেয়ে সুন্দরী নারীদের কে আপনার সামনে নিয়ে এসে হাজির করি। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন- “ আমার এক হাতে সূর্য্য আর এক হাতে চন্দ্র দিলেও আমি ইসলাম প্রচার থেকে পিছপা হব না। ” সুন্দর নারীদের প্রতি যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর লোভই থাকত নাউযুবিল্লাহ তাইলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ সময়ই মক্কার কাফেরদের কথা মেনে নিয়ে সুন্দরী নারীদের কে হস্তগত করে ইসলাম প্রচার থেকে বিরত হয়ে যেতেন। বুখারী মুসলিম শরীফে অনেক হাদীসে বর্ণিত আছে একটানা ২ মাস উম্মুল মুমেনিনদের ঘরে চুলায় আগুন জ্বলত না। শুধু খেজুর আর পানি খেয়েই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর উম্মুল মুমেনিনরা জীবন যাপন করতেন।

সেই যুগে আরবের একজন সাধারন ব্যক্তির গৃহেও ৪-৫ টা দাসী ছিল। রাস্তাঘাটে গরু ছাগলের মত দাস-দাসী কেনা বেচা হত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিন্তু চাইলেই পারতেন বিয়ে না করেও উনার ইচ্ছামত ৪-৫ টা দাসী ঘরে রাখতে। সেই যুগে আরবে এটা খুব সাধারন একটা ব্যাপার ছিল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বৈবাহিক জীবনের মাধ্যমে সমাজের দাসী প্রথাকে বিলুপ্ত করে উম্মত কে বৈবাহিক প্রথার দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশে ও উৎসাহে অনেক সাহাবীও উনাদের অধীনস্থ দাসীদের কে মুক্ত করে দিয়ে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিলেন। অনেক বড় বড় তাবেইনদের মা রা কিন্তু উনাদের পূর্ব জীবনে দাসী ছিলেন। আর যৌণতা বা জৈবিক চাহিদা মানব জীবনের কোন অস্বীকার করার জিনিস নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও আমাদের মত একজন রক্ত মাংসের মানুষ ছিলেন এবং উনারও জৈবিক চাহিদা ছিল।  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্ত্রীদের পালাক্রমে সময় দিতেন। অর্থ্যাত্‍ যে স্ত্রীর সাথে উনি ১ম রাতে থাকতেন ২য় রাতে উনি অন্য স্ত্রীর সাথে থাকতেন। যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক স্ত্রীর সাথেই সব সময় থাকতেন তাইলে ঐ স্ত্রীর উপর একটা বিরাট শারিরীক চাপ আসতো। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালাক্রমে প্রত্যেক স্ত্রীর সাথে থাকার কারনে কোন স্ত্রীর উপরই বাড়তি কোন শারিরীক চাপ আসে নি। 

ইসলাম কোন ধর্ম না ইসলাম হল একটা জীবন ব্যবস্থা। হাদীস সংরক্ষন ও দ্বীনের ইলম শিক্ষার উদ্দেশ্যে ৭০ জন সাহাবী সার্বক্ষনিক ভাবে মসজিদে নব্বীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে থাকতেন। উনাদের কেই আসহাবে সুফফা বলা হত।  কিন্তু এই সকল সাহাবীর পক্ষে ইসলামের পর্দা প্রথার কারনে সম্পর্কহীনা নারীদের মাঝে দ্বীন ইসলাম প্রচার করা সম্ভব ছিল না। যেহেতু মাদানী জীবনে ইসলামের প্রচুর বিধিবিধান নাযিল হয়েছিল তাই নারী সমাজের নিকট দ্বীন  ইসলাম প্রচারের জন্যও অনুরুপ একদল মহিলা সাহাবীরও প্রয়োজন ছিল যাদেরকে সার্বক্ষনিক ভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্যে থেকে দ্বীন ইসলাম শিখে নারী সমাজের নিকট প্রচার করার প্রয়োজনীয়তা ছিল। 

মেয়েদের সম্পর্কিত অনেক মাসলা মাসায়েল গুলি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর স্ত্রীগন যারা হলেন উম্মতের মাতা বা উম্মুল মুমেনিন তাদের মাধ্যমে নারী সমাজের কাছে এসেছে। খোদ আয়েশা রাযিয়াল্লহু আনহা ২২১০ টি  হাদীস বর্ণনা করেছেন যার  মধ্যে মুত্তাফিকুন আলাইহি হচ্ছে ১৭৪ টি । উম্মে সালমা রাযিয়াল্লাহু আনহা ৩৭৮ টি হাদীস বর্ননা করেছেন যার মধ্যে মুত্তাফিকুন আলাইহি হচ্ছে ১৭৪ টি । মেয়েদের এই মাসলা গুলি মেয়েদের মাধ্যমেই আসা সম্ভব ছিল। পুরুষ সাহাবীদের মাধ্যমে এই মেয়েলী মাসলা গুলি আসা কখনই সম্ভব ছিল না আর এটা শোভনও ছিল না। আর মেয়েদের এই মাসলা গুলি বেশির ভাগ মাদানী জীবনেই নাযিল হয়েছিল। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বেশির ভাগ বিয়েই উনার মাদানী জীবনে সংঘটিত হয়েছিল।  এখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি এই প্রয়োজন পূর্ণ করার লক্ষ্যে বৈবাহিক সম্পর্কহীনা ২/৪ জন স্ত্রীলোক কে উনার সাথে রাখতেন নাউযুবিল্লাহ তাইলে এর পথ ধরে মুসলিম সমাজের মাঝেও হিন্দুদের মন্দিরের মত সেবাদাসী প্রথা বা খ্রিষ্টানদের গীর্জার মত সন্নাসিনী বা Nun প্রথা চালু হয়ে যেত এবং যার পথ ধরে মুসলিম সমাজের ভিতর অনেক অনৈতিকতার পথ উন্মুক্ত হতে পারতো এবং ইসলামের ভিতর পর্দা প্রথা টি ধ্বংস হয়ে যেত।  আর তাই বৈবাহিক বন্ধন ছাড়া আর কোন উপায়ে যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলাদের কে উনার সাথে রাখতেন তাইলে অদূর ভবিষ্যতে ইসলামের ভিতর মন্দিরের সেবাদাসী প্রথা বা গীর্জার সন্ন্যাসিনী বা Nun প্রথা চালু হয়ে যেত যা ইসলামের পর্দা প্রথার সাথে সাংঘর্ষিক। আর তাই একমাত্র বিয়ের মাধ্যমেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের কাছে এই মাসলা গুলি পৌছিয়ে দিয়েছেন।  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি বৈবাহিক সম্পর্কবিহীন একটি মেয়েদের জামাত কে সার্বক্ষনিক ভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে রাখতেন নাউযুবিল্লাহ তাইলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাস্তিকদের কাছে খুবই চরিত্রবান ব্যক্তিতে পরিনত হয়ে যেতেন। তাই যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বহু বিবাহ নিয়ে অশ্লীল কথা বলে তারা আসলে চেয়েছিল ইসলামের ভিতরেও যেন মন্দিরের সেবাদাসী প্রথা বা গীর্জার সন্ন্যাসিনী বা Nun প্রথা চালু হোক। যেহেতু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর
পবিত্র বৈবাহিক জীবনের কারনে ইসলামের ভিতর কখনই কোন ভাবেই মন্দিরের সেবাদাসী প্রথা বা গীর্জার সন্ন্যাসিনী বা Nun প্রথা চালু হতে পারবেনা তাই ইসলাম বিদ্বেষীদের এখন যত রাগ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র বৈবাহিক জীবনের উপর।

তথ্যসূত্র
১. মাদারিজুন নবুওয়াত [নবুয়্যতের মর্যাদা], আল্লামা শায়খ আব্দুল হক্ক মুহাদ্দেস দেহলভী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। 
২. নবীয়ে রহমত, সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। 
৩. প্রিয় নবীর প্রিয় প্রসঙ্গ, মদীনা পাবলিকেশন্স, ৩৮/২, বাংলাবাজার, ঢাকা-১১০০। 
৪. হাদীস চর্চায় মহিলা সাহাবীদের অবদান, ডঃ মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

মোবাইল থেকে এই নোট টি শেয়ার করতে চাইলে এই লিংকে Click করুন


ইসলামী আক্বীদা সংশোধনের জন্য আরো পড়তে পারেন 
আল্লাহ সুবহানাতায়ালার অস্তিত্ত্বের একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমান

আল কোরআনের ব্যাকরণগত সৌন্দর্য্যের কিছু অসাধারন দিক জানুন

পুরুষ জাতির বহু বিবাহ প্রথা কে ইসলামী শরীয়াহ আসলে কতটুকু সমর্থন করে?

বনী কুরায়জা গোত্রের সকল পুরুষ ইহুদি হত্যা করা প্রসঙ্গে একটি পর্যালোচনা

ইসলামি শরীয়াহ কি কখনই দাস দাসী প্রথাকে সমর্থন করেছিল
আমাদের মুসলমানদের কেন একটি কেন্দ্রীয় খিলাফত রাষ্ট্র প্রয়োজন ?
আরজ আলী মাতুব্বরের যুক্তি খন্ডন, ৫ম পর্ব

হাতের কাছে রাখার মত কয়েকটি চমৎকার ইসলামী বই
হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম ২য় পর্ব

মেসওয়াক করার ফযীলত
আমার উম্মতের মাঝে ৭৩ টি দল হবে এদের মাঝে মাত্র একটি দল জান্নাতে যাবে" এই হাদীস টির মূল ব্যাখ্যা টি কি ?
সিজদায়ে সাহু সংক্রান্ত মাসলা-মাসায়েল

সহিহ শুদ্ধ ভাবে নামায পড়ার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় মাসলা



পুরুষ জাতির বহু বিবাহ


পুরুষ জাতির বহু বিবাহ প্রথা কে ইসলামী শরীয়াহ আসলে কতটুকু সমর্থন করে ?

28 October 2012 at 22:08
বহু বিবাহ প্রথা নিয়ে বর্তমান সমাজে অনেক কথাই হচ্ছে যে ইসলাম ধর্ম নাকি পুরুষদের বহুবিবাহ করতে উৎসাহ দেয়, ইসলামী শরীয়াহ নাকি বহু বিবাহের মাধ্যমে পুরুষদের কে উৎসাহ দেয় ঘরে সতীন ঢুকিয়ে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করার। আচ্ছা আসলে ইসলামী শরীয়াহ বহু বিবাহ কে কতটুকু সমর্থন করে বা কোন পুরুষ কি চাইলেই যত ইচ্ছা বিয়ে করতে পারবে এবং বহু বিবাহ করার পর একজন পুরুষকে কিভাবে সংসার চালাতে হবে এই বিষয় গুলি নিয়ে আমি এখন আমার এই Note এ বিস্তারিত আলোচনা করবো।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কন্যা ফাতেমা রাযিআল্লাহু আনহার নাম তো আমরা সবাই জানি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফাতেমা রাযিআল্লাহু আনহা কে খুব ভালবাসতেন। ফাতেমা রাযিআল্লাহু আনহা অনেক অনেক হাদীস বর্ণনা করেছেন। ফাতেমী তসবীহ নামে যে তসবীহ টা আমরা ৫ ওয়াক্ত নামাযের পর ও রাতে ঘুমানোর আগে পড়ি সেটা কিন্তু হযরত ফাতেমা রাযিআল্লাহু আনহা থেকেই বর্ণিত হয়েছে। এমনকি ফাতেমা রাযিআল্লাহু আনহার প্রতি বেশি শ্রদ্ধা দেখাতে গিয়ে শিয়ারা তাদের রাজ্য শাসন ব্যবস্থাকে ফাতেমী খিলাফত নামে অভিহিত করতো।

ফাতেমা রাযিআল্লাহু আনহা জীবিত থাকা অবস্থায় আলী রাযিআল্লাহু আনহু ২য় বিয়ে করতে চাইলে এটা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন - "যে ব্যক্তি ফাতেমাকে কষ্ট দিবে সে আমাকে কষ্ট দিবে।" [তথ্যসূত্রঃ মেশকাত শরীফ, আহলে বাইত অধ্যায়]  ফাতেমা রাযিআল্লাহু আনহা একজন সুস্থ সবল সন্তান দায়িনী মা ছিলেন। আলী রাযিআল্লাহু আনহুর ঘরে উনার কয়েকটি ছেলে মেয়ে ছিল। যদি এমন হত যে ফাতেমা রাযিআল্লাহু আনহার কোন ছেলে মেয়ে হয়নি বা ফাতেমা রাযিআল্লাহু আনহা অসুস্থতার কারনে সংসার চালাতে পারছেন না তাইলে আলী রাযিআল্লাহু আনহু ফাতেমা রাযিআল্লাহু আনহা জীবিত থাকা অবস্থায় বিয়ে করতে চাইলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলী কে কোন বাধা দিতেন না।  কিন্তু ঘরে একজন সুস্থ সবল সন্তান দায়িনী স্ত্রী রেখে আলী রাযিআল্লাহু আনহু ২য় বিয়ে করবে এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পছন্দ করেন নি। আলী রাযিআল্লাহু আনহু তাই ফাতেমা রাযিআল্লাহু আনহা জীবিত থাকা অবস্থায় আর কোন বিয়ে করেননি। তবে ফাতেমা রাযিআল্লাহু আনহার মৃত্যুর পর আলী রাযিআল্লাহু আনহু ২য় বিয়ে করেছিলেন। [ তথ্যসূত্রঃ হায়াতুস সাহাবাহ রাযিআল্লাহু আনহু, হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ কান্ধলভী রহমাতুল্লাহ আলাইহি, দারুল কিতাব, ৫০, বাংলাবাজার, ঢাকা- ১১০০]

আপনি হয়ত এখন বলবেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তো বহু বিবাহ করেছিলেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বহু বিবাহ জাতীয় আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর আপনি এই লিংকে ক্লিক করলেই পাবেন


ইসলামে অনেক কিছুই জায়েজ তবে শোভন নয়। মা বাবার আপন চাচাত ফুফাত বোনকেও বিয়ে করা ইসলামী শরীয়তে জায়েজ তবে এটা ইসলামে শোভন নয় বা ইসলাম কখনো এই জাতীয় বিয়ে করতে উত্‍সাহ দেয় না। আপনি হয়ত এখন বলতে পারেন যে ইসলামী শরীয়তে কেন তাইলে পিতার বা মাতার আপন চাচাত মামাত বোনকে বিয়ে করা জায়েজ করেছে। এর কারন হল কখনো যদি কোন মুসলিম উনাদের কাউকে বিয়ে করেই ফেলে তাইলে যেন এটা কোন হারাম কাজ না হয়। সত্যিকথা বলতে কি ইসলাম খুব কম জিনিসকেই হারাম ঘোষনা করছে। যেমন সমুদ্রের সকল মাছ খাওয়াই কিন্তু ইসলামী শরীয়তে হালাল কিন্তু এখন মাছ বলতে কোনটাকে বুঝাবে। এই প্রশ্নের উত্তর ইসলাম জেলেদের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। জেলেরা সমুদ্রের যে সকল মাছকে হিংস্র মাছ বলবে এই জাতীয় মাছ ছাড়া আর সকল মাছ খাওয়াই হালাল।

আচ্ছা এখন আমরা দেখি যদি একটা লোক তার ১ম স্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ২য় বিয়ে করে তাইলে এর পরে তার বৈবাহিক জীবনটাকে কীভাবে চালাবে। গ্রাম এলাকায় এক সময় যৌথ পরিবার বা join Family এর প্রচলন ছিল। বাপ চাচারা একসাথে থাকতো একই হাড়িতে ভাত রান্না হত। যদি কোন ব্যক্তি ২য় বিয়ে করেই ফেলে তাইলে অবশ্যই তাকে তার ২ স্ত্রীকে ১ম স্ত্রীর সাথে একই ছাদের নিচে থাকতে হবে অর্থ্যাৎ join Family এর মত। আমাদের দেশে দেখা যায় যেই স্বামী ২য় বিয়ে করে সে শুধু তার যৌবণবতী স্ত্রীর সাথেই সংসার করে। আর ১ম স্ত্রীর সংসারে মাসে ১ বার যায়, মাত্র ২-৩ দিন থাকে। ফলে তার ১ম স্ত্রীর ছেলে মেয়েরাও পিতাকে ঐরকম ভাবে কাছে পায় না। অর্থ্যাৎ ধরেন ঐ ব্যক্তির যৌবণাবতী স্ত্রী থাকে মিরপুরে আর বিগত যৌবনা ১ম স্ত্রী থাকে রামপুরায়। দেখা যায় যে স্বামী ব্যক্তিটি মাসের ২৫ দিনই যৌবণবতী স্ত্রীর সাথে মিরপুরে থাকে আর মাসের ৫ দিন রামপুরায় যেয়ে বিগত যৌবনা ১ম স্ত্রীর সাথে থাকে। যা একটা সুস্পষ্ট হারাম কাজ। কিন্তু স্বামী ব্যক্তিটি যদি মাসের ১৫ দিন ১ম স্ত্রীর সাথে থাকে আর মাসের বাকী ১৫ দিন ২য় স্ত্রীর সাথে থাকে এবং টাকা পয়সা ভালবাসা উভয় স্ত্রীর সংসারেই সমান ভাবে ব্যয় করে তাইলে ঐ ব্যক্তির ২য় বিয়ে করা জায়েজ হবে। আর স্বামী যদি শুধু যৌবণবতী স্ত্রীর সংসারেই বেশি সময় ও টাকা পয়সা দেয় তাইলে কোরআন হাদীস অনুসারে ঐ ব্যক্তি তার মৃত্যুর পর সরাসরী জাহান্নামে চলে যাবে। এখন সে দুনিয়ার জীবনে যত নামায-কালাম-হজ্জই করে থাকুক না কেন উভয় স্ত্রীর হক সঠিক ভাবে পালন না করার কারনে মৃত্যুর পর সে নিশ্চিত জাহান্নামী।

আল-কোরআনে পুরুষদের বহু বিবাহ নিয়ে যে আয়াতটি এসেছে সেটা হল- “তবে নারীগণের মধ্য থেকে মনমতো বিয়ে করে নাও দুইটি,তিনটি অথবা সর্বোচ্চ চারটি;আর যদি আশংকা করো তাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করতে পারবে না তাহলে শুধুমাত্র একটাই।”(নিসা ৪:৩) এখন আমরা যদি আল-কোরআনের আরেকটি আয়াতের দিকে লক্ষ্য করি সেইখানে বলা হয়েছে- “তোমরা ইচ্ছে করলেও স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায় এবং সমতা সাধন করতে পারবে না।”(নিসা ৪:১২৯) অর্থ্যাৎ পুরুষদের বহু বিবাহ করার যে প্রধান শর্ত
স্ত্রীদের মাঝে সমতা রক্ষা করা আসলে এটা একটা খুব কঠিন কাজ। এই ২ টি আয়াত থেকে কিন্তু আমরা স্পষ্ট ভাবে বুঝতে পাই যে পুরুষদের কে একটি বিয়ে করতেই ইসলাম উৎসাহ দিচ্ছে।

এখন কেউ যদি বলে আমার ২য় বিয়ে করার পর আমি এইভাবে সংসার চালাত পারবো না বা উভয় স্ত্রীর মাঝে আমার সময়, অর্থ, ভালবাসা সঠিক ভাবে ব্যয় করতে পারবো না তাইলে ঐ ব্যক্তির ২য় বিয়ে করা জায়েজ হবে না। এখন ঐ ব্যক্তি যত ধনীই হোক না কেন বা যত বীর্যবান পুরুষই হোক না কেন।  [ তথ্যসূত্রঃ হানাফী মাযহাবের মূল ফিকাহের কিতাব হেদায়া, ইমাম বুরহান উদ্দিন আলী ইবনে আবু বকর রহমাতুল্লাহ আলাহি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ]

ইসলামের ১ম যুগে প্রচুর জিহাদ হইছিল। তখন অনেক নারীই বিধবা হয়েছিলেন। তাই সাহাবীরা বাধ্য হয়ে বহু বিবাহ করেছিলেন। কিন্তু এর মানে এই নয় যে সাহাবীরা বহু বিবাহ করতে উম্মাহ কে উৎসাহ দিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাবেইনদের সময়ে বহু বিবাহ টা কমে আসে।
ভারতবর্ষে যার মাধ্যমে লাখ লাখ হিন্দু মুসলমান হয়েছিলেন, অনেক সাধারন মুসলমান যার মাধ্যমে এহসানের পর্যায়ে চলে গিয়েছিলেন সেই খাজা মহীউদ্দিন চিশতী রহমাতুল্লাহ আলাইহি জীবনে মাত্র ১টি বিয়ে করেছিলেন। ওলী কুলের শিরোমনী বায়েজীদ বোস্তামী রহমাতুল্লাহ আলাইহিও উনার জীবনে মাত্র ১টি বিয়ে করেছিলেন। শাহজালাল রহমাতুল্লাহ আলাইহি তো জীবনে বিয়েই করেননি। [ তথ্যসূত্রঃ তাযকিরাতুল আউলিয়া, এমদাদিয়া লাইব্রেরী ]

ইসলাম কখনই পুরুষদের কে বহু বিবাহ করতে উৎসাহ দেয় নি বরং ইসলাম পুরুষদের কে এক স্ত্রীর মাঝেই সন্তুষ্ট থাকতে বলেছে। আর তাছাড়া ইসলামের বহু বিবাহের পর বৈবাহিক জীবনের শর্ত গুলি এত জটিল যে খুব কম মুসলমানের পক্ষেই সম্ভব ২ টি বিয়ে করা। আপনি হয়ত বলতে পারেন যে স্বামী যদি তার ১ম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ২য় বিয়ে করে। এর উত্তরে আমি বলব যুক্তিযুক্ত কোন কারন ছাড়া বা ১ম স্ত্রীর কোন গুরুতর অন্যায় ছাড়া শুধু ২য় বিয়ে করার জন্য কেউ যদি তার ১ম স্ত্রীকে তালাক দেয় তাইলে তার এই বিনা কারনে ১ম স্ত্রীকে তালাক দেয়ার জন্য মাযহাব ভেদে ঐ স্বামী কে ৪০-৮০ টি বেতের বারি দেয়া হবে। [তথ্যসূত্রঃ ফতোয়ায়ে আলমগিরী] আর কেউ যদি ২য় বিয়ে করেই তাইলে এক্ষেত্রে ইসলাম তাকে উৎসাহ দেয় সে যেন সমাজের কোন অসহায় বিধবা বা তালাক প্রাপ্তা নারীকে বিয়ে করে যেই নারীকে সমাজের কেউ বিয়ে করতে চাচ্ছে না। কিন্তু ঘরে যৌবণবতী সন্তান দায়িনী স্ত্রীকে রেখে তরতাজা ২৪ বছরের আমেরিকান নাগরিকত্ব ধারী কোন মেয়েকে বিয়ে করবে আর এই জাতীয় বিয়ে করার ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়াহ কখনই উৎসাহ দেয় না।

আমরা জানি ইউরোপ আমেরিকার মানুষদের যৌণ চাহিদা খুব বেশী। Sex industry নামে ইউরোপ আমেরিকায় বিশাল বাজার আছে। ইউরোপ আমেরিকার প্রত্যেক টা ব্যক্তি তার জীবনে বান্ধবী, বন্ধুর স্ত্রী, যৌণ কর্মী, লিভ টুগেদার এরকম ভাবে মিলিয়ে গড়ে ৮-১০ টা নারীর সাথে সম্পর্ক করে কোন সামাজিক স্বীকৃতি ছাড়াই। এত মেয়েদের সাথে একটি পুরুষের এই সম্পর্ক গুলি চলতে থাকে ঘরে বৈধ স্ত্রী রেখেই। মূলত এই বহু বিবাহ প্রথাটা দরকার ইউরোপ আমেরিকার জনগনের জন্য।

মোবাইল থেকে এই নোট টি শেয়ার করতে চাইলে এই লিংকে Click করুন

ইসলামী আক্বীদা সংশোধনের জন্য আরো পড়তে পারেন
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বহু বিবাহ প্রসঙ্গে ইসলাম বিদ্বেষীদের সমালোচনার জবাব

আল্লাহ সুবহানাতায়ালার অস্তিত্ত্বের একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমান

বনী কুরায়জা গোত্রের সকল পুরুষ ইহুদি হত্যা করা প্রসঙ্গে একটি পর্যালোচনা

ইসলামি শরীয়াহ কি কখনই দাস দাসী প্রথাকে সমর্থন করেছিল
আমাদের মুসলমানদের কেন একটি কেন্দ্রীয় খিলাফত রাষ্ট্র প্রয়োজন ?

হাতের কাছে রাখার মত কয়েকটি চমৎকার ইসলামী বই
হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম ২য় পর্ব

মেসওয়াক করার ফযীলত
আমার উম্মতের মাঝে ৭৩ টি দল হবে এদের মাঝে মাত্র একটি দল জান্নাতে যাবে" এই হাদীস টির মূল ব্যাখ্যা টি কি ?

সিজদায়ে সাহু সংক্রান্ত মাসলা-মাসায়েল

সহিহ শুদ্ধ ভাবে নামায পড়ার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় মাসলা


উম্মতের মাঝে ৭৩ টি দল/ফেরকা



"আমার উম্মতের মাঝে ৭৩ টি দল হবে এদের মাঝে মাত্র একটি দল জান্নাতে যাবে" এই হাদীস টির মূল ব্যাখ্যা টা কি ?

27 July 2012 at 12:27
"আমার উম্মতের মাঝে ৭৩ টি দল হবে এদের মাঝে মাত্র একটি দল জান্নাতে যাবে" তিরমীযি শরীফে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই হাদীস টিকে আমরা অনেকেই ব্যাখ্যা হিসাবে এরকম ভাবে বলি থাকি যেমন যারা তাবলীগ জামাত করে তারা বলে তারাই হল সেই হকপন্থী দলটি যাদের কথা উক্ত হাদীসে বলা হয়েছে। আবার যারা জামাত শিবির করে তারা অনেকেই ভাবে যে তারাই হল সেই মুক্তিপ্রাপ্ত দলটি আর বাকী ইসলামী দল বা গোষ্ঠী গুলি সেই অভিশপ্ত ৭২ দলের মাঝে পড়েছে।

এরকম ভাবে প্রত্যেকে যে যে ইসলামী দল করে তারা ভাবে একমাত্র তারাই হল হাদীসে উল্লেখিত সেই মুক্তিপ্রাপ্ত দল টি। আসলে উপরোক্ত হাদীস টির মূল ব্যাখ্যা বা শরাহ না জানার কারনে আমাদের মাঝে অনেক বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ঐ হাদীসে যে হকপন্থী দলটির কথা বলা হয়েছে এটা হল আক্বীদার ক্ষেত্রে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত যেটা আমাদের সকল মুসলিমদের আক্বীদা। আর যে অভিশপ্ত ৭২ দলের কথা বলা হয়েছে তারা হল রাফেজী, শিয়া, মুতাজিলা, খারেজী, কাদিয়ানী প্রমুখ যে দল গুলি ইসলামের মূল আক্বীদা থেকে সরে গিয়ে অভিশপ্ত হয়েছে। মূলত তাবেঈনদের যুগ থেকে ইসলামের মূল আক্বীদা থেকে সরে গিয়ে অনেক অনৈসলামিক আক্বীদার উদ্ভব হয়েছিল যারা পরে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে গিয়েছিল। তারাই হল সেই ৭২ দলের মাঝে অন্তর্ভুক্ত। আপনি যেই দেশের অধিবাসী হন, রাজনৈতিক ভাবে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামাত শিবির হিযবুত তাহরীর, চরমোনাইর পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, মুফতি আমীনের ইসলামী ঐক্যজোট যে কোন দলই করেন না কেন বা যে মাযহাব অনুসরন করুন বা লা মাযহাবী হন অর্থ্যাত্‍ আহলে হাদীস, সালাফী হন না কেন আপনি যদি আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আক্বীদা কে Support করেন তাইলে আপনি অবশ্যই একজন মুসলিম ও উপরোক্ত হাদীসে উল্লেখিত সেই একমাত্র মুক্তিপ্রাপ্ত দলটির মাঝে অন্তর্ভুক্ত হবেন।এখন আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আক্বীদার আক্বীদা টা কি ? কোন মুসলমানের মাঝে নিম্নলিখিত গুণ গুলি থাকলে সে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অন্তর্ভুক্ত বলে গন্য হবে।
১. কোন সাহাবীর সমালোচনা না করা এবং এমন আলোচনাও না করা যার দ্বারা কোন সাহাবীর মর্যাদা ক্ষূণ্ণ হয়।
২. নিজের ঈমানের উপর কখনো সন্দিহান না হওয়া।
৩. ইসলামী সরকারের বিরুদ্ধে কোন প্রয়াস না চালানো।
৪. ভাল মন্দ যা কিছু হয় তা সব আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয় এবং তাকদীরের উপর বিশ্বাস রাখা।
৫. কোন মুসলমান কে কাফের না বলা।
৬. কোন মুসলমান মারা গেলে তার জানাযার নামায পড়া।
৭. জান্নাতে মুসলমানরা আল্লাহকে দেখতে পাবে এই আক্বীদায় বিশ্বাস করা।
৮. একমাত্র আল্লাহই গায়েব/ভবিষ্যত্‍ জগতের খবর জানেন।
৯. ইসলাম ব্যতীত জাহান্নাম থেকে মুক্তি অসম্ভব।
১০. কবরবাসী থেকে সাহায্য প্রার্থনা করা শিরক।
১১. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মিরাজ স্বশরীরে সংঘঠিত হয়েছে।
১২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর আর কোন নবী আসবে না।
১৩. তিন খোদার দাবীদার এবং আল্লাহর পুত্র আছে বলে যারা দাবী করে তারা কাফের। ঈসা আলাইহিস সাল্লাম ৪র্থ আসমানে জীবিত আছেন, উনি কেয়ামতের পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একজন উম্মত হিসাবে আবার পৃথিবীতে আসবেন এটা বিশ্বাস করা।
১৪. সকল নবী রাসূলরা নিস্পাপ এবং সকল নবীদের মুজেযা সত্য। সকল নবী রাসূলের উপর ঈমান আনতে হবে।
১৫. ওলী আউলিয়াদের কারামত সত্য তবে ওলী আউলিয়ারা সাহাবী রাযিআল্লাহু আনহুদের পর্যায়ভুক্ত নন।
১৬. কবরের আযাব সত্য, স্বশরীরে পুনরুথ্থান সত্য, মিযান পুলসিরাত সত্য।
১৭. হাশরের মাঠে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুপারিশ বা শাফায়াত ছাড়া কোন মুসলমান জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না এটা বিশ্বাস করা। এখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে অভিশপ্ত ৭২ দলের কথা বলেছেন তাদের সম্পর্কে একটু আলোচনা করবো। প্রথমেই মুতাজিলা:- মুতাজিলারা বিশ্বাস করে জান্নাতে আল্লাহকে দেখা যাবে না। মুতাজিলারা কবরের আযাব কে বিশ্বাস করে না।

শিয়া:- এরা মোট ২২ টি উপদলে বিভক্ত। শিয়াদের মধ্যে একমাত্র যাইদিয়া সম্প্রদায় ছাড়া আর সকল সম্প্রদায় অনেক সাহাবীদের সম্পর্কে কুধারনা পোষণ করে। খারেজী:- এরা হযরত আলী রাযিআল্লাহু আনহুকে কাফির বলে। খারেজীদের মতে কোন মুসলমান কবীরা গুনাহ করলেই সাথে সাথে সে কাফির হয়ে যায় নাউযুবিল্লাহ এ মতবাদে বিশ্বাস করে।
মুরাজিয়া:- এদের আক্বীদা হল কাফেররা যেমন নেক আমল দ্বারা জান্নাতে যেতে পারবে না ঠিক তেমনি মুসলমানরাও কোন কবিরা গুনাহের কারনে জান্নাতে যেতে পারবে না।
নাজারিয়া:- এরা আল্লাহ সুবহানাতায়ালার অনাদি বা আজালী সত্ত্বায় বিশ্বাস করে না। এরা বলে কোরআন নাকি সৃষ্ট হয়েছে। জাবরিয়া:- এদের আক্বীদা হল বান্দার কোন কাজ করার ইচ্ছা শক্তিটুকু পর্যন্ত নাকি নাই।
বাহাই ও কাদিয়ানী:- এরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে শেষ নবী বলে স্বীকার করে না। এরকম আরো বহু বিভ্রান্ত আক্বীদার অধিকারী ইসলামের মাঝ থেকে বের হয়ে গেছে। কিয়ামতের আগ পর্যন্ত এরকম আরো বহু বাতিল চিন্তা ধারা মুসলমানদের মাঝে অনুপ্রবেশ করবে। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সবাইকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আক্বীদা কে শক্ত ভাবে আমৃত্যু ধরে রাখার তওফীক দিক। আমিন।
তথ্যসূত্রঃ 
[শাহ ওয়ালী উল্লাহ রহমাতুল্লাহ আলিইহির  হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ খ: ১ পৃ: ১৭০, ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহমাতুল্লাহ আলাইহির ‘‘মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ’’ আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ আলিহির  ‘গুনিয়াতুত তালেবীন’ ] 
মোবাইল থেকে এই নোট টি শেয়ার করতে চাইলে এই লিংকে Click করুন

উম্মতে মুহম্মদী বাহাত্তর ফেরকা বাতিল, গোমরাহ্ ও জাহান্নামী কেন? =================== Muhammad Abdullah
 ইসলামী শরীয়ত জরুরত আন্দাজ আক্বীদা সম্পর্কিত ইলম অর্জন করাকে ফরজ করেছে। কারণ ঈমান তথা আক্বীদাই হচ্ছে দ্বীন ইসলামের মূল এবং প্রধানতম ভিত্তি। যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। প্রথমেই হচ্ছে, (১) সাক্ষী দেয়া যে আল্লাহ্ পাক ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই এবং হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ পাক-এর বান্দা ও রসূল, অতঃপর (২) নামাজ, (৩) যাকাত, (৪) হজ্ব এবং (৫) রমজান শরীফের রোজা।” (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত ইত্যাদি) সুতরাং যদি ঈমান তথা আক্বীদাই শুদ্ধ না থাকে তবে নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি আমলসমূহ সম্পুর্ণই মূল্যহীন। আর তাই মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কালামুল্লাহ্ শরীফে এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীস শরীফে ঈমানের ব্যপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। আর অনুস্বরণীয় ইমাম-মুজতাহিদহণ ঈমান তথা আক্বীদা সম্পর্কিত বিষয় সমূহ গুরুত্ব সহকারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। যেমন মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফের “সূরা আছরে” ইরশাদ করেন, “আছরের সময়ের কসম! নিশ্চয় সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্থের অন্তর্ভূক্ত। যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে তারা ব্যতীত।” অনুরূপ আরো অসংখ্য আয়াত শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফে বিদ্যমান রয়েছে যাদ্বারা মূলতঃ এটাই বুঝানো হয়েছে যে, ঈমান তথা আক্বীদাই হচ্ছে মূল অর্থাৎ বিশুদ্ধ আক্বীদা ব্যতীত সমস্ত আমলই মূল্যহীন তাই ঈমান বা আক্বীদাকে আমলের “আছল” বলা হয়। কাজেই জান্নাত লাভ করতে হলে এবং জাহান্নাম থেকে নাযাত পেতে হলে মহান আল্লাহ পাক ও তাঁর রসূলসহ সকল বিষয় সহীহ্ বা বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করতে হবে। উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহ দ্বীন ইসলামের সকল বিষয়ে কিরূপ আক্বীদা পোষন করা জরুরী তা নির্ধারন করেছেন অনুস্বরনীয় ইমাম-মুজতাহিদগণ, বিশেষকরে হযরত ইমাম আবুল মানছুর মাতুরিদী রহমতুল্লাহী আলাইহি ও আবুল হাসান আশায়েরী রহমতুল্লাহী আলাইহি। এদের বর্ণিত আক্বীদা সমূহই “আক্বায়েদে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত” নামে অভিহিত। আর এ ব্যপারে সকলেই একমত যে যারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত-এর আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র তারাই হাদীস শরীফে বর্ণিত “নাজী” বা নাজাত প্রাপ্ত। আর যারা এর বিপরীত আক্বীদা পোষণ করবে (যদিও তা কোন একটি বিষয়েই হোক না কেন) তারা গোমরাহ্, বাতিল, জাহান্নামী। স্মর্তব্য যে, কুফরী আক্বীদায় যারা বিশ্বাসী তারা কস্মিনকালেও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভূক্ত হতে পারে না বরং তারা ৭২টি বাতিল ফের্কার অন্তর্ভূক্ত। মূলতঃ এ ধরণের কূফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী হওয়ার কারণেই উম্মতে মুহম্মদির মধ্যে ৭২টি বাতিল ও জাহান্নামী ফের্কার আবির্ভাব ঘটেছে। যদিও তারা প্রকাশ্যে কলেমাগো অর্থাৎ কালিমা শরীফ পাঠ করে থাকুক না কেন। এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “আমার উম্মত ৭২ দলে বিভক্ত হবে, একটি দল ব্যতীত বাহাত্তরটি দলই জাহান্নামে যাবে। তখন হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যে একটি দল নাযাত প্রাপ্ত, সে দলটি কোন দল? হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি এবং আমার সাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণের মত ও পথের উপর যারা কায়েম থাকবে (তারাই নাযাত প্রাপ্ত দল)।” ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইহা বর্ণনা করেন। আর মসনদে আহমদ ও আবূ দাউদের বর্ণনায় “হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, ৭২টি দল জাহান্নামে যাবে, আর একটি দল জান্নাতে যাবে। মূলতঃ সে দলটিই হচ্ছে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত।” (মেশকাত, মেরকাত, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, শরহুতত্বীবী, তা’লীকুছছবীহ, মোযাহেরে হক্ব, মিরয়াতুল মানাজীহ্, তানযীমুল আশতাত) উল্লিখিত হাদীস শরীফ দ্বারা মূলতঃ এটাই বুঝানো হয়েছে যে উম্মতে মুহম্মদী তথা “কালেমা গো মুসলমানই” ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, তন্মধ্যে ৭২টি দলই জাহান্নামী, গোমরাহ্ ও বাতিল, মূলতঃ তারা মুসলমানের অন্তর্ভূক্ত নয়। আর একটি মাত্র দল জান্নাতী, আর সেটা হচ্ছে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত। এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত মুহাদ্দিস, রঈসুল মুহাদ্দিসীন, ইমাম মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিখ্যাত কিতাব মিশকাত শরীফের শরাহ্ “মিরকাত শরীফ”-এর ১ম জিঃ ২৪৮নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন যে, “আবহুরী বর্ণনা করেন, নিশ্চয় (হাদীস শরীফে বর্ণিত) উম্মত শব্দ দ্বারা উম্মতে ইজাবত তথা “কালেমাগো”দেরকেই বুঝানো হয়েছে। অধিকাংশ আলেমগণের এটাই অভিমত। (উম্মতে ইজাবতের) প্রত্যেক দল জাহান্নামী…………. একদল ব্যতীত। হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ বললেন, সে দল কোনটি অর্থাৎ নাযাত প্রাপ্ত দল কোনটি? ……………….. হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি ও আমার সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণের মত ও পথে যারা কায়েম থাকবে (তারাই নাযাত প্রাপ্ত দল)………….. মূলতঃ উহার দ্বারা এটাই বুঝিয়েছেন যে, তারা হেদায়েতপ্রাপ্ত। আমার এবং আমার পর খুলাফা-ই-রাশেদীনগণের সুন্নত ধারণকারী। অতএব, এতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই যে, তারাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত। আর বলা হয়েছে যে, আক্বীদা, ক্বওল ও ফে’লের দিক থেকে তারা আমি ও সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণের অনুসারী হবে। এটা মূলতঃ ইজমা দ্বারা প্রমাণিত, ওলামায়ে ইসলাম যার উপর ইজমা করেছেন, সেটাই হক্ব। এছাড়া (অর্থাৎ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত ছাড়া) যা রয়েছে, সবই বাতিল।” উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখ্যায় “মিরকাত শরীফের” উক্ত স্থানে আরো উল্লেখ আছে যে, “জেনে রাখ! (উক্ত ৭৩টি দল) প্রধাণতঃ ৮টি দলে বিভক্ত, যা “মাওয়াক্বিফ” কিতাবে বর্ণিত রয়েছে- ১। মু’তাজিলাহ্………………. এরা বিশ(২০) দলে বিভক্ত, ২। শিয়া..…………………… এরা বাইশ(২২) দলে বিভক্ত, ৩। খারেজী………………….. এরা বিশ(২০) দলে বিভক্ত, ৪। মরজিয়্যাহ্…………..…….. এরা পাঁচ(৫) দলে বিভক্ত, ৫। নাজ্জারিয়্যাহ্……………….. এরা তিন(৩) দলে বিভক্ত, ৬। জাবারিয়্যাহ্……………….. এরা এক(১) দলেই রয়েছে, ৭। মুশাব্বেহা………………… এরাও এক(১) দলেই রয়েছে, সুতরাং উল্লেখিত ৭২টি দল, তারা প্রত্যেকেই জাহান্নামী। ৮। আর নাজিয়াহ্ বা নাযাতপ্রাপ্ত দল, তারা হলো- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্পষ্ট সুন্নত ও উজ্জ্বল তরীক্বতের অনুসারী। অর্থাৎ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত।” উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখ্যায় মিশকাত শরীফের শরাহ্ “তা’লীকুছ ছবীহ্” কিতাবের ১ম খন্ডের ১৩০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “উক্ত হাদীস শরীফে যে ৭২টি দলকে জাহান্নামী বলা হয়েছে সেই ৭২টি জাহান্নামী দল মূলে হলো ৬টি (১) খারেজী, (২) শিয়া, (৩) মু’তাজিলাহ্, (৪) জাবারিয়াহ্, (৫) মরজিয়্যাহ্, (৬) মুশাব্বেহা। অতঃপর খারেজী-১৫ দল, শিয়া-৩২ দল, মুতাজিলা-১২ দল, জাবারিয়্যাহ্-৩ দল, মরজিয়্যাহ্-৫ দল, মুশাব্বেহা-৫ দল। অনুরূপ খুলাছাতুল মাফাতীহ্ কিতাবে বর্ণিত আছে।” গাউছুল আযম, মুহবুবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত আব্দুল কাদির জ্বীলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর আলোড়ন সৃস্টিকারী ও নির্ভরযোগ্য কিতাব “গুনিয়াতুত্ তালেবীন”-এর ১৯৩ নং পৃষ্ঠায় লিখেন, “(হাদীস শরীফে বর্ণিত) ৭৩টি দল মূলতঃ ১০টি মূল দলের অন্তর্ভূক্ত, যার বিস্তারিত বর্ণনা নিম্নরুপঃ- ১। আহলে সুন্নত, ২। খারেজী, ৩। শিয়া, ৪। মু’তাজিলাহ্, ৫। মরজিয়্যাহ্, ৬। মুশাব্বেহা, ৭। জাহমিয়া, ৮। জেরারিয়াহ্, ৯। নাজ্জারিয়াহ্, ও ১০। কিলাবিয়াহ এগুলো হলো ১০টি বড় বা মূল দল, এগুলোর আবার বহু উপদল রয়েছে যেমন- ১। আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত………….… এরা ১ দল। ২। খারেজী……………………………………….….. ১৫ দল। ৩। মু’তাযিলাহ …………………………………….. ৬ দল। ৪। মরজিয়্যাহ……………………………………….. ১২ দল। ৫। শিয়া বা রাফেজী…………………………..…….৩২ দল। ৬। জাহমিয়্যাহ্……………………………………….. ১ দল। ৭। নাজ্জারিয়্যাহ……………………………………….. ১ দল। ৮। জেরারিয়াহ……………………………………….. ১ দল। ৯। কিলাবিয়াহ……………………………….………. ১ দল। ১০। মুশাব্বেহা…………………………………….…. ৩ দল। উল্লিখিত সব গুলো দল মিলে ৭৩ দল হলো, যে সম্পর্কে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীস শরীফে ইরশাদ করেছেন। উক্ত দল গুলোর মধ্যে শুধু মাত্র একটি দলই নাজাত প্রাপ্ত, আর সেটা হলো “ফিরক্বায়ে নাজী” অর্থাৎ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত।” উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখ্যায় মিশকাত শরীফের শরাহ্ “তানজীমুল আমতাত” কিতাবের ১ম খন্ডের ১২৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “হাদীস শরীফে যে ৭২টি ফেরকার কথা উল্লেখ আছে উক্ত ফেরকাসমূহের মূলে হলো ৬টি যথা- (১) খারেজী, (২) শিয়া, (৩) মু’তাজিলা, (৪) জাবারিয়্যাহ্, (৫) মরজিয়্যাহ্ এবং (৬) মুশাব্বেহা। অতঃপর উক্ত প্রত্যেকটি দল আবার কয়েকটি দলে বিভক্তঃ- যেমনঃ (১) খারেজী-১৫ দল, (২) শিয়া-৩২ দল, (৩) মু’তাজিলা-১২ দল, (৪) জাবারিয়্যাহ্-৩ দল, (৫) মরজিয়্যাহ্-৫ দল, (৬) মুশাব্বেহা-৫ দল সর্বমোট ৭২ দল। আরেকটি হলো “নাজিয়া” দল অর্থাৎ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত। এখন ৭৩ দল হলো। যেমন তা’লীকুছ ছবীহ্ কিতাবে ১ম জিঃ ১৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, যা খুলাছাতুল মাফাতীহ্ নামক কিতাব থেকে বর্ণনা করা হয়েছে। আর বিশ্ব বিখ্যাত মুহাদ্দিস হযরত শায়খ আব্দুল হক দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি “মাওয়াক্বেফ” কিতাব থেকে বর্ণনা করেন যে, ইসলামের বড় দলগুলো ৮টি যথাঃ- (১) মু’তাজিলাহ্, (২) শিয়া, (৩) খারেজী, (৪) মরজিয়্যাহ্, (৫) নাজ্জারিয়্যাহ্, (৬) জাবারিয়্যাহ্, (৭) মুশাব্বেহা, (৮) নাজিয়্যাহ্। আবার এ সমস্ত মূল দলগুলির অনেকগুলো উপদল আছে- (ক) মুতাজিল্লাহ্-২০ দল, (খ) শিয়া-২২ দল, (গ) খারেজী-২০ দল, (ঘ) মরজিয়্যাহ্-৫ দল, (ঙ) নাজ্জারিয়াহ্-৩ দল, (চ) জাবারিয়্যাহ্-১ দল, (ছ) মুশাব্বেহা-১ দল, (জ) নাজিয়াহ্-১ দল অর্থাৎ নাজিয়াহ্ দল হলো আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত। সব মিলে সর্বমোট ৭৩ দল। যা আশয়াতুল লুময়াতের ১ম খন্ডের ১৫১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে। এখন কথা হলো- নাজিয়াহ্ দল অর্থাৎ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতই যে নাযাত প্রাপ্ত দল তা কিভাবে বুঝা যাবে? কেননা প্রত্যেক দলেই তো নিজেকে নাজিয়াহ্ (নাযাতপ্রাপ্ত) দল বলে থাকে। এর জবাব হলো- প্রত্যেক দল নিজেকে শুধু আক্বলী দলীলের দ্বারা নাজিয়াহ বা নাজাতপ্রাপ্ত দল দাবী করলেই হবে না। বরং মুতাওয়াতির হাদীস শরীফ এবং হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণের আছার বা ক্বাওল দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত ঐ আক্বীদাতেই বিশ্বাসী, যে আক্বীদা হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও তাবেয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিগণ বিশ্বাস করতেন। তাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতই “ফিরক্বায়ে নাজিয়াহ” বা নাযাতপ্রাপ্ত দল। কেননা অন্যান্য বাতিল ফিরক্বাগুলো যে সকল বিদয়াত বা শরীয়ত বিরোধী আক্বীদা ও আমলের উদ্ভব ঘটিয়েছে তা হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, তাবেয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহি, মুতাক্বাদ্দেমীন, সলফে সালেহীন গণের জামানায় ছিল না। বরং তা পরে উদ্ভব হয়েছে। সুতরাং আইম্মায়ে মুজতাহেদীন, মাযহাবের ইমামগণ, হযরত মুহাদ্দিসীন-ই-কিরাম এবং সিহাহ্ সিত্তাহ্-এর লেখকগণ উক্ত মাযহাব এরই অন্তর্ভূক্ত। আর আক্বীদা ও ফেক্বাহের ইমাম আশায়েরাহ্ ও মাতুরিদিয়াহ্ অর্থাৎ হযরত আবুল হাসান আশায়েরী ও হযরত আবুল মনসুর মাতুরিদী রহমতুল্লাহি আলাইহি সলফে সালেহীনগণের মাযহাবকে আক্বলী দলীলের দ্বারা প্রমাণ করে সুন্নাতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ইজমায়ে সলফকে শাক্তিশালী করেছেন। এজন্যই এদেরকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত বলা হয়।” আরো অনেক কিতাবেই উল্লেখিত ৭২টি দলকেই উক্ত হাদীস শরীফের ভিত্তিতে গোমরাহ, বাতিল ও জাহান্নামী বলা হয়েছে। উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, উম্মতে ইজাবত তথা “কালেমাগো” বা কলেমা পাঠকারীদের মধ্যেই আক্বীদা, ক্বওল ও ফে’লের ভিত্তিতে ৭৩টি দল হবে, তন্মধ্যে একটি মাত্র দল নাযাতপ্রাপ্ত, জান্নাতী ও হক্ব। আর ৭২টি দল জাহান্নামী, গোমরাহ্ ও বাতিল। এ ব্যাপারে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসরণীয় সকল ইমাম, মুজতাহিদ, মুহাক্কিক, মুদাক্কিক, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, ফক্বীহ ও আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিগণ একমত। উল্লেখ্য, ইমাম-মুজতাহিদগণ ৭২টি বাতিল ফেরকার নাম ও সংখ্যার ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করলেও নিম্নে বর্ণিত মূল দলগুলো বাতিল ও জাহান্নামী হওয়ার ব্যাপারে সকলেই একমত যেমন- (১) খারেজী, (২) শিয়া, (৩) মরজিয়্যাহ্, (৪) জাহমিয়্যাহ্, (৫) মু’তাযিলাহ্, (৬) কদ্বরিয়াহ্, (৭) জাবারিয়াহ্, (৮) মুশাব্বেহা ইত্যাদি। কারণ উক্ত ৮টি দলের প্রত্যেকেই কালিমা পাঠ করে অর্থাৎ মহান আল্লাহ্ পাক এবং তাঁর রসূল-এর প্রতি ঈমান রাখে, শুধু তাই নয় তারা নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি ফরজ-ওয়াজিব ও সুন্নত আমলগুলোও প্রায় পালন করে থাকে। এমনকি অনেক বিষয় আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ন্যায় আক্বীদাও পোষণ করে। অথচ তার পরও তারা শরীয়তের দৃষ্টিতে গোমরাহ্, বাতিল ও জাহান্নামী। কারণ তারা কোন কোন ক্ষেত্রে কূফরীমূলক আক্বীদা পোষণ করে ও বক্তব্য পেশ করে থাকে। যেমন- (১) খারেজী ফিরক্বার আক্বীদাঃ ---------------------------- খারেজী সম্প্রদায়কে “খারেজী” বলার কারণ হলো তারা (খারেজীরা) হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে খলীফা বলে স্বীকার করেনা। কেননা হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যখন হযরত আবূ মুসা আশয়ারী ও আমর ইবনুল আ’স রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে সালিশ মেনেছিলেন, তখন তারা বলেছিল “আমরা আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারো নির্দেশ মান্য করতে প্রস্তুত নই।” এ কথা বলে তারা উক্ত মজলিশ থেকে খারিজ বা বের হয়ে যায়, এ কারণেই তাদেরকে খারেজী বলা হয়। তাদের অসংখ্য কুফরী আক্বীদার মধ্যে যেগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তা হলো- হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ কাফের ও কবিরা গুনাহে গুনাহগার। যারা হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ-এর প্রতি বিদ্ধেষ পোষণ করে তারা তাদের বন্ধু। যাকে একবার দোযখে নিক্ষেপ করা হবে সে চিরকাল দোযখেই থাকবে। একবার মিথ্যা বলে বিনা তওবায় মারা গেলে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে। মোজা পরিধান করে নামাজ পড়া এবং মোজার উপর মসেহ্ করা হারাম। মোতা বা কন্ট্রাক বিবাহ জায়েয। যে একবার মিথ্যা কথা বলে এবং ছগীরা গুনাহ্ করে ও তার উপর দৃঢ় থাকে সে মুশরিক। পৃথিবীতে কোন ইমাম বা নেতার প্রয়োজন নেই। প্রত্যেক কবীরা গুনাই কুফরী। ব্যাভিচারী পুরুষ ও মহিলাকে সঙ্গেসার করা হারাম। সূরা ইউসূফ কুরআন শরীফের অংশ নয়। পরে তা সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়াও খারেজীদের সকল দলই হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আবু মু’সা আশয়ারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত আমর ইবনুল আ’স রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণকে কাফের বলে থাকে। (নাউযুবিল্লাহ মিনযালিক) খারেজী সম্প্রদায় এধরনের আরো বহু কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী। এদের সম্পর্কেই হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “ধনুক হতে তীর যেরূপ বের হয়ে যায়, খারেজীরাও তদ্রুপ দ্বীন হতে বের হয়ে গেছে, এরা আর কখনো দ্বীন ইসলামে ফিরে আসবেনা।” উল্লেখ্য, খারেজী সম্প্রদায়কে হুরুরিয়া সম্প্রদায়ও বলা হয়। (২) শিয়া বা রাফেজী ফিরক্বার আক্বীদা ------------------------------------ তারা যেহেতু হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে অনুসরণ করে এবং সকল সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ-এর উপরে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কে প্রাধান্য দিয়ে থাকে, তাই তাদেরকে “শিয়ানে আলী” বা শিয়া বলা হয়। এদের উল্লেখযোগ্য কুফরী আক্বীদা হলো- হযরত আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত উসমান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সহ সকল সাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর চেয়ে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর মর্যাদা বেশী। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খেলাফতের পর খেলাফতের অধিক হক্বদার ছিলেন হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। তাঁকে খেলাফত না দেয়ায় সকলেই মুরতাদ হয়ে গেছে, চারজন ব্যতীত। তারা হলেন হযরত আলী, আম্মার, মেকদাদ ইবনে আসওয়াদ এবং সালমান ফার্সী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। পৃথিবীর সকল নবীগণের চেয়ে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর মর্যাদা বেশী। হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-ই নবী। হযরত জিব্রীল আলাইহিস সালাম ভুলে তাঁর উপর ওহী নাযিল করেন নাই। আল্লাহ পাক-এর আকৃতি মানুষের আকৃতির ন্যায়। (নাউযুবিল্লাহ) এধরনের আরো বহু কুফরী আক্বীদায় তারা বিশ্বাসী। এরা রাফেজী নামেও পরিচিত। (৩) মরজিয়্যাহ ফিরক্বার আক্বীদা ------------------------------- মরজিয়্যাহ সম্প্রদায়ের আক্বীদা হলো- এক বার কালিমা শরীফ পাঠ করে ঈমান আনার পর হাজার কুফরী-শেরেকী করলেও তার ঈমান নষ্ট হয়না। শুধু ঈমান আনলেই হয় আমলের কোন প্রয়োজন নেই। ঈমান বাড়েওনা, কমেওনা, সাধারণ মানুষ, ফেরেস্তা এবং নবী-রসূলদের মর্যাদা সমান, এতে কোন পার্থক্য নেই। এছাড়া আরো অনেক কুফরী মতবাদে তারা বিশ্বাসী। (৪) জাহমিয়াহ ফিরক্বার আক্বীদা ------------------------------ জাহম ইবনে ছাফওয়ান এ সম্প্রদায়ের নেতা বলে এদেরকে “জাহমিয়াহ” বলা হয়। এদের আক্বীদা হলো- আল্লাহ পাককে জানা এবং আল্লাহ পাক-এর নিকট যা রয়েছে তা সম্পর্কে জ্ঞাত থাকাই ঈমান। কুরআন শরীফ মাখলুক বা সৃষ্ট। আল্লাহ পাক হযরত মুসা আলাইহিস সালাম বা অন্য কারো সাথে কথা বলেন নাই। আরশ-কুরসী, হাশর-নাশর, মীযান-শেষ বিচার বলতে কিছুই নেই। পরকালে আল্লাহ পাক কারো দিকে তাকাবেননা, কারো সাথে কথা বলবেননা, কারো সাথে দেখাও দিবেন না, আল্লাহ পাক-এর দীদার লাভ করাও সম্ভব হবেনা। কবিরা গুনাহ্ করলে ফাসেক হয়না ইত্যাদি। এছাড়া আরো বহু কুফরী আক্বীদা তারা পোষণ করে থাকে। (৫) মু’তাজিলাহ ফিরক্বার আক্বীদা -------------------------------- ইসলামী আক্বীদা থেকে তারা দূরে সরে গেছে বিধায় তাদেরকে ‘মু’তাজিলাহ’ বলা হয়। আবার কেউ কেউ বলেন, তারা একবার কোন এক বিষয়ে হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তখন হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি হলেছিলেন “আমার থেকে তোমরা দূরে সরে যাও।” সেদিন থেকেই তারা “মু’তাজিলাহ” নামে পরিচিত। এদের বাতিল ও কুফরী আক্বীদা হলো- কুরআন শরীফ মখলুখ। কবীরা গুনাহকারী কাফীর। তাদের মধ্যে কেউ বলে কবীরা গুনাহ্ কারী মোমেনে কামিল। আবার কেউ বলে কবীরাহ গুনাহ্ কারী কাফেরও নয় মোমেনও নয়, মু’তাজিলাহ ফিরক্বার সকলেই বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ পাক-এর ইলম, কুদরত, দর্শন, শ্রবন ইত্যাদি কোন সিফত বা গুন নেই। আল্লাহ পাক আরশে স্থিতিবান। অন্যের ভাগ্যে আল্লাহর হাত নেই, বান্দার কাজ আল্লাহ্ সৃষ্টি করেন না। বরং বান্দাই তার সৃষ্টিকর্তা, বান্দা মৃত্যুর নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেও মারা যায় ইত্যাদি বহু কুফরী আক্বীদা তাদের রয়েছে। (৬) ক্বদরিয়া ফিরক্বার আক্বীদা ----------------------------- এরা “তাকদীর” অস্বীকার করে বলে এদেরকে “ক্বদরিয়া” বলা হয়। এদের বিশ্বাস বান্দা যে সকল পাপ বা নেক করে তা নিজের ইচ্ছাই করে, এতে আল্লাহ পাক-এর কোন দখল নেই অর্থাৎ তাকদীর বলতে কিছু নেই। (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) এরূপ আরো অনেক কুফরী আক্বীদা তাদের রয়েছে। (৭) জাবারিয়া ফিরক্বার আক্বীদা ------------------------------ এদের আক্বীদা হলো- ভালো-মন্দ অর্থাৎ নেক কাজ পাপ কাজ সবই আল্লাহ পাক-এর ইচ্ছায় হয় এতে বান্দার কোন ইচ্ছা বা এখতিয়ার নেই, যেমনঃ- নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, চুরি, যিনা, হত্যা ইত্যাদি সবই আল্লাহর ইচ্ছায় হয় এতে বান্দার কোন ইচ্ছা নেই। (নাউযুবিল্লাহ) (৮) মুশাবিয়াহ ফিরক্বার আক্বীদা ------------------------------- মুশাবিয়াহ্ ফিরক্বাহ ৩ দলে বিভক্ত হেশামিয়াহ, মাকাতেলিয়াহ্ এবং ওয়াসেমিয়াহ। এদের সকলেরই আক্বীদা হলো- “মহান আল্লাহ পাক জিসম বা দেহ বিশিষ্ট তাদের বক্তব্য আমরা আল্লাহ পাক-এর অস্তিত্বে বিশ্বাসী, আর অস্বিত্বের জন্য দেহ বা কাঠামোর প্রয়োজন। যার দেহ নেই তাঁর অস্তিত্বও নেই। আল্লাহ পাক-এর দেহ লম্বা, চওড়া, মোটা এবং নূরানী, চাঁদের টুকরার ন্যায় উজ্বল, আল্লাহ পাক চলমান আবার অনড়, তিনি উঠা বসা করেন, আল্লাহর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে অন্য কারো তুলনা হতে পারেনা। এধরণের আরো অনেক কুফরী আক্বীদা তারা পোষণ করে থাকে। অতঃএব উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো যে, উম্মতে ইজাবত তথা “কালেমাগো” বা কলেমা পাঠকারীদের মধ্যেই আক্বীদা, ক্বওল ও ফে’লের ভিত্তিতে ৭৩টি দল হবে, তন্মধ্যে একটি মাত্র দল নাযাতপ্রাপ্ত, জান্নাতী ও হক্ব। আর ৭২টি দল জাহান্নামী, গোমরাহ্ ও বাতিল। এ ব্যাপারে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসরণীয় সকল ইমাম, মুজতাহিদ, মুহাক্কিক, মুদাক্কিক, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, ফক্বীহ ও আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিগণ একমত।


 
ইসলামী আক্বীদা সংশোধনের জন্য আরো পড়তে পারেন 
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বহু বিবাহ প্রসঙ্গে ইসলাম বিদ্বেষীদের সমালোচনার জবাব

বনী কুরায়জা গোত্রের সকল পুরুষ ইহুদি হত্যা করা প্রসঙ্গে একটি পর্যালোচনা

ইসলামি শরীয়াহ কি কখনই দাস দাসী প্রথাকে সমর্থন করেছিল
আমাদের মুসলমানদের কেন একটি কেন্দ্রীয় খিলাফত রাষ্ট্র প্রয়োজন ?

হাতের কাছে রাখার মত কয়েকটি চমৎকার ইসলামী বই
হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম ২য় পর্ব

মেসওয়াক করার ফযীলত
আমার উম্মতের মাঝে ৭৩ টি দল হবে এদের মাঝে মাত্র একটি দল জান্নাতে যাবে" এই হাদীস টির মূল ব্যাখ্যা টি কি ?

আল্লাহ সুবহানাতায়ালার অস্তিত্ত্বের একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমান
সিজদায়ে সাহু সংক্রান্ত মাসলা-মাসায়েল

সহিহ শুদ্ধ ভাবে নামায পড়ার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় মাসলা

একটি কেন্দ্রীয় খিলাফত রাষ্ট্র প্রয়োজন কেন.?


আমাদের মুসলমানদের কেন একটি কেন্দ্রীয় খিলাফত রাষ্ট্র প্রয়োজন ?

22 November 2012 at 22:37
  (     উনি হচ্ছেন মুসলিম বিশ্বের সর্বশেষ খলিফা ২য় আব্দুল মাজিদ। ১৯২৪ সালে উসমানীয় খিলাফতের পতনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১২০০ বছরের খিলাফতের শাসন থেকে আমরা মুসলিম উম্মাহ বিচ্যুত হই। আজকে যদি আমাদের একজন খলিফা থাকত তাইলে হয়ত ইরাক আফগানিস্তান ফিলিস্তিন কাশ্মীর বার্মায় মুসলমানরা এইভাবে মার খেতো না। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কে আবার খিলাফত আসার ব্যাপারে সুসংবাদ দিয়ে গেছেন। "আবার আসবে খিলাফত নব্যুয়তের আদলে।" [মুসনাদে আহমদ] আমাদের সবার উচিত খিলাফত ব্যবস্থা পুন:প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করা।)                                                           

১ম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির কাছে তুরস্ক হারার পর ১৯২০ সালের দিকে যখন উসমানীয় খিলাফতের একদম ভঙ্গুর অবস্থা সেই সময় বৃটেন ও ফ্রান্স সরকার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক নাটক মঞ্চস্থ করার পরিকল্পনা করে। এমনকি ঐ নাটকের টিকেটও বিক্রি করা হয়ে গিয়েছিল। সেই সময়ে উসমানী খিলাফতের সর্বশেষ খলিফা ২য় আব্দুল মাজিদ বৃটেন ও ফ্রান্স সরকার কে অনুরোধ করেছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে নিয়ে ঐ ব্যঙ্গাত্মক নাটকটি  মঞ্চস্থ না করার। এর উত্তরে বৃটেন ও ফ্রান্স সরকার খলিফা ২য় আব্দুল মাজিদ কে তাদের দেশের মত প্রকাশ করার স্বাধীনতার কথা বলে নাটকটি মঞ্চস্থ করবেই এই কথা বলে। এর উত্তরে মুসলিম জাহানের সর্বশেষ খলিফা ২য় আব্দুল মাজিদ বৃটেন ও ফ্রান্স সরকার কে বলেছিলেন - “ আপনারা যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে নিয়ে ঐ ব্যঙ্গাত্মক নাটকটি মঞ্চস্থ করেন তাইলে আমি জিহাদে আকবরের ঘোষনা দিব। ” খলিফার এই কথা শুনে বৃটেন ও ফ্রান্স সরকার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে নিয়ে ঐ ব্যঙ্গাত্মক নাটকটি আর মঞ্চস্থ করার সাহস পায় নি। জিহাদে আকবর বলতে আমরা হয়ত বুঝেছি যে বড় জিহাদ। আসলে তা নয়। জিহাদে আকবর মানে হল কোন খলিফা যখন জিহাদে আকবরের ঘোষনা দেয় তখন আর কোন বালেগ ছেলে/পুরুষ ঘরে থাকতে পারবে না। তাকে অবশ্যই কাফের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জিহাদে অংশগ্রহন করতে হবে।  আর আজকে খিলাফত বিলুপ্ত হবার পর প্রায় ১০০ বছরের মত পশ্চিমা বিশ্বে কত লক্ষবার  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে নিয়ে কত ব্যঙ্গাত্মক নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে, কত অশ্লীল কার্টুন আকা হয়েছে তার ইয়াত্তা নেই। এমনকি উইকিপিডিয়ায় পর্যন্ত প্রতিমুহূর্তে মত প্রকাশ করার স্বাধীনতার নামে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে অপমান করছে। 
উইকিপিডিয়ায় কিভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে অপমান করছে প্রতি মুহূর্তে তা জানতে এই লিংকে ক্লিক করুন ১ম পর্ব

উইকিপিডিয়ায় কিভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে অপমান করছে প্রতি মুহূর্তে তা জানতে এই লিংকে ক্লিক করুন ২য় পর্ব


হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু তো আমাদের সবার প্রিয় সাহাবী। আচ্ছা হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু যখন ইরাক ইরান সিরিয়া জর্ডান মিশর এই দেশ গুলি জয় করেছিলেন তখন কি হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু ঐ বিজিত দেশগুলিকে স্বাধীন করে দিয়েছিলেন না মদীনা থেকেই একটি কেন্দ্রিয় খিলাফত রাষ্ট্রের অধীনে ইরাক ইরান সিরিয়া জর্ডান মিসর এই দেশগুলি চালিয়েছেন? অবশ্যই হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু একটি কেন্দ্রীয় খিলাফত সরকারের অধীনে মদীনা থেকেই ঐ বিজিত দেশ গুলি চালিয়েছিলেন। শুধু হযরত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু নয় হযরত ওসমান, আলী, মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহু উনারা সবাই উনাদের অধীনে একটি কেন্দ্রীয় খিলাফতের মাধ্যমে এত বিশাল মুসলিম ভূ-খন্ড শাসন করেছিলেন। সাহবীদের এই আদর্শ অনুসরন করে উমাইয়া, আব্বাসীয়, উসমানীয় প্রত্যেক খিলাফত কালেই সবসময় মুসলিম রাষ্ট্র গুলি একটি কেন্দ্রিয় সরকারের অধীনে ছিল। এই খিলাফতটা ১৯২৪ সাল পর্যন্ত পৃথিবীতে টিকেছিল।

আচ্ছা আপনি যদি ভারতের মুম্বাই জম্মু এলাকার কোন মন্দিরে যেয়ে দূর্গা দেবীর নাম বলেন তাইলে কিন্তু ঐ এলাকার হিন্দুরা দূর্গা দেবীকে চিনবেনা। এর কারন হচ্ছে দূর্গা পূজা শুধু বাঙ্গালী হিন্দুদের মাঝে প্রচলিত। দক্ষিন ভারতের হিন্দুরা দূর্গা দেবীর নামই শুনে নাই। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের ভাষা ভিন্ন। বাঙ্গালী ভারতীয়রা কখনই মালয় ভাষা বুঝবেনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মন মোহন সিং উনি তো হিন্দুও না উনি তো শিখ। ভাষা বর্ন সংস্কৃতির এত বিশাল বৈচিত্র থাকার পরও কিন্তু ভারতের জনগন একটি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকছে। শুধু তাই নয় আমেরিকা একটা বড় দেশ, রাশিয়া একটা বড় দেশ, চীন একটা বড় দেশ, কানাডা একটা বড় দেশ, ভারত একটা বড় দেশ এই দেশ গুলির জনগণেরা যদি একসাথে থাকতে পারে বিভিন্ন ভাষা সংস্কৃতির অধিকারী হয়েও তাইলে আমরা মুসলমানরা কেন একসাথে থাকতে পারবো না? আর এমন না যে আমরা মুসলমানরা কখনই একসাথে ছিলাম না। ৬৩২ সাল থেকে শুরু করে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১২৯২ বছর যদি আমরা মুসলমানরা একটি কেন্দ্রীয় খিলাফত সরকারের অধীনে একসাথে থাকতে পারি তাইলে এখন আবার আমাদের মুসলমানদের এক হতে সমস্যাটা কোথায় ? এই ভারতের কি সুলতানী আমল কি খলজী বংশ কি দাস বংশ কি মুঘল বংশ যেই বংশই এই ভারত শাসন করেছিল না কেন উনারা সবসময় উমাইয়া/আব্বাসীয়/উসমানীয় যেই সময়ে যেই খলিফা ছিল তাদের কাছ থেকে রাজ্য শাসন করার অনুমতি পত্র নিয়ে আসতেন।  

মুঘল সাম্রাজ্য কালে একমাত্র কাফের বাদশাহ আকবর ছাড়া আর প্রত্যেকটা মুঘল বাদশাই উসমানীয় খলিফাদের কাছ থেকে সাম্রাজ্য চালানোর অনুমতি পত্র নিয়ে আসতেন। জুম্মার খুতবা কালে ভারতের প্রত্যেকটা মসজিদেই সম্মানিত খলিফার নাম আগে উল্লেখ করা হত তারপর সেই সময়ের ভারতের সুলতানের নাম উল্লেখ করা হত। যতক্ষন পর্যন্ত খলিফার কাছ থেকে অনুমতি পত্র না নিয়ে আসতে পারতেন ততক্ষন পর্যন্ত কোন ভারতের সুলতানই ক্ষমতার মসনদে পাকাপাকি ভাবে বসতে পারতেন না। খলিফার কাছ থেকে অনুমতি পত্র পাওয়ার পরই ঐ সুলতান কে ভারতের জনগন রা মন থেকে মেনে নেত।
দক্ষিন ভারতের স্বাধীন মুসলিম সুলতান মাহমুদ শাহ বেগড়া শাসন কালে ১৪৭০ সালের দিকে যখন পর্তুগীজ হানাদাররা গুজরাট উপকূলে এসে হানা দেয় তখন উসমানীয় খলিফা মুরাদের প্রেরিত নৌবহরের সাহায্যে গুজরাটের সুলতান মাহমুদ শাহ বেগড়া পর্তুগীজ হানাদারদের শোচনীয় ভাবে পরাজিত করেন। অর্থ্যাৎ খিলাফতের সাথে এই ভারত উপমাহাদেশের সব সময় যোগাযোগ ছিল। জ্বলজ্যান্ত ইতিহাস এর সাক্ষী।

১ম বিশ্ব যুদ্ধে ইংরেজ সরকার কর্তৃক তুরস্ককে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করার পর ভারত উপমহাদেশের খিলাফত আন্দোলনের কথা তো আমরা সবাই জানি। ইংরেজ সাম্রাজ্যকালীন সময়ে আমাদের পূর্ব পুরুষরা বলত- “ আমরা পরাধীন জাতি হলেও আমাদের একজন স্বাধীন খলিফা আছে। ”

হ্যা আমি স্বীকার করি কয়েকটি ব্যাপার নিয়ে ভুল বুঝাবুঝির কারনে উসমানীয় খলিফা বায়েজিদের সাথে তৈমুর লংগের ভাতৃঘাতি যুদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু তৈমুর লংগ কিন্তু বায়েজিদ কে খলিফা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এমনকি যুদ্ধের সময়েও বলেছিল - “ হে খলিফা বায়েজিদ! পূর্ব ইউরোপের কোন খ্রিষ্টান দেশ যদি উসমানীয় খিলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তাইলে আমি আপনাকে সৈন্য ও রসদ সরবরাহ করবো। সুবহানাল্লাহ! ” হ্যা খিলাফতের দাবি নিয়ে যে ভাতৃঘাতি সংঘাত টা হত তা অল্প কিছুদিনের জন্য হত। খলিফার বাইয়াত হয়ে যাবার পর সব মিটমাট হয়ে যেত। কারন  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন - “ যখন ১ জন খলিফার হাতে বাইয়াত গ্রহন সম্পন্ন হয়ে যায় তখন অন্য কেউ যদি খলিফার দাবী নিয়ে বিরোধ করতে আসে তাইলে ঐ ব্যক্তিকে হত্যা কর। ( মুসলিম শরীফ ) ”

আজকে এতদিন ধরে ফিলিস্তিন গাজা বার্মা কাশ্মীর চীনের উইঘুর প্রদেশ ফিলিপাইনের মিন্দানাও থাইল্যান্ডের পাত্তানি প্রদেশে মুসলমানদের উপর এত নির্যাতন হচ্ছে প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় সেই সব এলাকার মুসলিম মেয়েরা মুশরিকদের হাতে ধর্ষিত হচ্ছে কই মুসলিম দেশের এত লাখ লাখ সেনাবাহিনীর কেউ কি যেয়ে সেই সব এলাকার নির্যাতিত মুসলমানদের কে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে ?  কিন্তু আজ থেকে ঠিক ১৩০০ বছর আগে ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে হিন্দু রাজা দাহির কর্তৃক যখন কিছু মুসলমান নির্যাতিত হয়েছিলেন তখন সেই সময়ের উমাইয়া খলিফা ২য় আব্দুল মালেকের নির্দেশে ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সূদূর সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক থেকে উনার জামাতা মুহাম্মদ বিন কাসিম কে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। মুহাম্মদ বিন কাসিম যে শুধু পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের কিছু সংখ্যক মুসলমান কেই উদ্ধার করেছিলেন তা নয় বরং সিন্ধু প্রদেশের নিম্ন বর্ণের হিন্দু মেয়েদেরকে ব্রাক্ষণদের লালসার হাত থেকে বাচিয়েছিলেন। এরপরে নিম্ন বর্ণের হিন্দু মেয়েরা কৃতজ্ঞতায় মুহাম্মদ বিন কাসিমের মূর্তি বানিয়ে পূজা শুরু করেছিলেন এই ইতিহাসও আমরা সবাই জানি। [তথ্যসূত্রঃ আল বেরুনীর ভারত তত্ত্ব] আর আজকে ফিলিস্তিনের গাজার মুসলমানরা এতদিন ধরে এই পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট জাতি ইহুদীদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে কিন্তু মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড সরকার, ইরানের শিয়া মুসলিম রাষ্ট্র, মসজিদে নব্বী ও মসজিদে হারামাইনের এই পবিত্র ২ মসজিদের তথাকথিত খাদেম সউদী আরবের পেট মোটা বাদশাহ উনারা কেউই এক প্লাটুন সৈন্যও পাঠানোর সাহস পাচ্ছে না ইসরাইলের বিরুদ্ধে। কিন্তু গাজা থেকে মিশর, সউদী আরবের আর কতটুকুই বা দূরত্ব ? অবশ্যই এই দূরত্বটা পাকিস্তানের সিন্ধু থেকে সিরিয়ার দামেস্কের সমান নয়। ৭১২ সালে যদি এত দীর্ঘ রাস্তা পার হয়ে খলিফার নির্দেশে এক মুসলমান আরেক মুসলমান ভাইয়ের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারে তাইলে এই ২০১২ সালে কেন সামান্য ৪০-৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে মিসর, সউদী আরব, জর্ডান, ইরানের সেনাবাহিনী গাজার মুসলমানদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারবেনা ?  এখন মুসলমানরা জাতিসংঘের কাছে হাত পাতে ফিলিস্তিনের গাজার মুসলমানদের কে বাঁচানোর জন্য। আসলে খিলাফত বিহীন বর্তমান মুসলমানরা খুবই আনুষ্ঠানিকতা প্রিয় হয়ে গেছে। আফসোস!

কি উমাইয়া কি আব্বাসীয় কি উসমানীয় খিলাফত প্রত্যেকটা খিলাফত কালেই প্রত্যেকটা খলিফা সারা বিশ্বের প্রত্যেকটা মুসলিমের জান মালের নিরাপত্তাটাকে সর্বোচ্চ বিবেচনা করে তারপর উনাদের ভবিষ্যত কর্ম পরিধিটা নির্ধারন করতেন। এই যে গণতান্ত্রিক রাজনীতি এর দ্বারা কখনই মুসলমানদের সামগ্রিক নিরাপত্তা সাধন হবেনা। একমাত্র খিলাফতই পারে বার্মা কাশ্মীর চীনের উইঘুর প্রদেশ ফিলিপাইনের মিন্দানাও থাইল্যান্ডের পাত্তানি প্রদেশ গাজার মুসলমানদের কে মুশরিকদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে। “খলিফা বার বার সৈন্য প্রেরন করবেন খলিফা ইসলাম কে নিয়ে যাবেন সমগ্র মানব জাতির কাছে।”

আমরা ইসলাম শিখবো কার কাছ থেকে অবশ্যই সাহাবীদের কাছ থেকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর পর সাহবীরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের লাশ দাফন করতে ২ রাত বিলম্ব করেছিলেন শুধু কে খলিফা হবে এটা নির্ধারন করতে যেয়ে।  [ তথ্যসূত্রঃ সীরাতে ইবনে হিশাম ]
এটা সবারই জানা ছিল যে কোনও ব্যক্তির দাফন একটা ফরজ কাজ এবং যারা এটা করবে তারা দাফন কার্যের পূর্বে তারচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ কোনও কাজে নিজেদেরকে নিযুক্ত করবেনা। কিন্তু আমরা দেখতে পাই যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কিছু সাহাবী রাযিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুর পর নিজেদেরকে একজন খলিফা নিয়োগের ব্যাপারে ব্যস্ত রেখেছিলেন যদিও  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দাফন কার্যও তাদের উপর ফরজ ছিল। অন্যান্য  সাহাবীরা রাযিয়াল্লাহু আনহু এ ব্যাপারে নীরব ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দাফন কার্য বিলম্বিত করার  প্রতিবাদ করার সামর্থ্য থাকা সত্বেও উনারা  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃতদেহ দাফনের ব্যাপারে দু’রাত বিলম্ব করার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছিলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত দেহকে দাফনের চেয়েও একজন খলিফার নিয়োগ অধিক গুরুত্বপূর্ণ উপরোক্ত ঘটনার মাধ্যমে সাহাবীরা এ ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলেন। 
সাহাবীরা হযরত আবু বকরের মৃত্যুর পর হযরত উমর এরপর হযরত ওসমান এরপর হযরত আলী এরপর মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহুকে খলিফা নিয়োগ দিয়েছিলেন। যদিও কখন কাকে খলিফা নিয়োগ দেয়া হবে এটা নিয়ে সাহাবীদের মাঝে মতপার্থক্য হয়েছিল কিন্তু একজন খলিফা যে সব সময় থাকতেই হবে এই ব্যাপারে সাহাবীরা একমত ছিলেন।
তাই মুসলিম বিশ্বে অবশ্যই একজন খলিফা থাকতে হবে এটা হচ্ছে ইজমা আস সাহাবাহ যা শরীয়তের একটি সুস্পষ্ট দলীল। কোন মুসলমান যদি সাহাবীদের কোন ইজমাকে অস্বীকার করে তাইলে সে কাফের হয়ে যাবে এখন সে যত বড় পন্ডিতই হোক না কেন। আবার আমরা জানি ওয়াজিব পূরনের জন্য যা প্রয়োজন তা নিজেই একটা ওয়াজিব। যেহেতু খলিফা ছাড়া ইসলামী বিধিবিধান-কিয়াস -জিহাদ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় তাই খলিফা থাকা ও খিলাফত পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করা জনমত গঠন করা এটাও একটা ওয়াজিব।  বুখারী ও মুসলিম শরীফের একটি হাদিসে যেটাকে মুত্তাফিক আলাইহি বলা হয় যেইখানে আবু হাজিমের বরাত দিয়ে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেন, “আমি আবু হুরায়রার সাথে পাঁচ বছর অতিবাহিত করেছি এবং তাকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “বনী ইসরাঈলকে শাসন করতেন নবীগণ। যখন এক নবী মৃত্যুবরণ করতেন তখন তার স্থলে অন্য নবী আসতেন, কিন্তু আমার পর আর কোনও নবী নেই। শীঘ্রই অনেক সংখ্যক খলিফা আসবেন। সাহাবীরা  তখন জিজ্ঞেস করলেন তখন আপনি আমাদের কী করতে আদেশ করেন?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  তখন বললেন, তোমরা একজনের পর একজনের বা’য়াত পূর্ণ করবে,তাদের হক আদায় করবে। অবশ্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা তাদেরকে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের ব্যাপারে প্রশ্ন করবেন।” [বুখারী ও মুসলিম]

এই হাদিসে  সিয়াসাত শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। আরবীতে সিয়াসাত শব্দের অর্থ হল রাজনীতি বা উম্মতের দেখাশুনা করা। আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে আল-আরাজও সেই সূত্রে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেন যে, “রাসূল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “নিশ্চয়ই, ইমাম হচ্ছেন ঢাল স্বরূপ যার পেছনে থেকে জনগণ যুদ্ধ করে এবং যার মাধ্যমে জনগণ নিজেদেরকে রক্ষা করে।” [মুসলিম]
ইসলামী শরীয়াহতে ইমামত ও খিলাফত ও ইমাম ও খলিফা একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। 

ইমাম মেহেদী সম্পর্কে আমাদের মাঝে একটি ভুল ধারনা আছে। আর তা হল আমরা অনেকেই ধারনা করি যে ইমাম মেহেদী আসার পর আবার খিলাফত শুরু হবে। আসলে এই ধারনা টা ভুল। ইমাম মেহেদী সম্পর্কে মেশকাত শরীফের কিয়ামতের নিদর্শন সমূহ এই অধায়্যের ৫২২২ নং যে হাদীস টি আছে আমরা যদি এখন ঐ হাদীসের প্রতি দৃষ্টিপাত করি তাইলে সেইখানে লেখা আছে যে - “উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামা রাযিয়াল্লাহু আনহা কর্তৃক হতে বর্নিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন , “শেষ যুগে খলিফার মৃত্যুর পর নেতৃস্থানীয় লোকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিবে পরবর্তী খলিফা কে হবে তা নিয়ে। তখন মদীনা থেকে একব্যাক্তি বের হয়ে মক্কার দিকে ছুটে পালাবে। এ সময় মক্কাবাসীগন তার নিকট এসে তাকে জোরপূর্বক বের করে আনবে। কিন্তু সে তা পছন্দ করবে না। প্রকৃতপক্ষে এই ব্যক্তিই ইমাম মেহেদী। অতঃপর হাযারে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহীমের মধ্যবর্তী স্থানে লোকেরা তার কাছে বায়াত গ্রহন করবে। এরপর সিরিয়া থেকে একটি সেনাবাহীনি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য পাঠানো হবে। কিন্তু মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী বাইদা নামক স্থানে তাদেরকে ভূগর্ভে পুঁতে ফেলা হবে। তারপর যখন চারদিকে এই খবর ছড়িয়ে পরবে এবং লোকেরা চাক্ষুষভাবে এই অবস্থা দেখবে তখন শামের (বর্তমান সিরিয়া)আবদাল গন এবং ইরাকের এক বিরাট দল তার কাছে আসবে ও তার কাছে বায়াত গ্রহন করবে। এরপর কোরাইশদের এক ব্যাক্তি যার মাতুল বংশ হবে বনু কালব , সেও ইমামের বিরুদ্ধে একদল সৈন্য পাঠাবে। ইমামের সেনাবাহীনি তাদের উপর বিজয়ী হবে। এটাই কালবের উত্থান। ইমাম মানুষের মধ্যে নবীর আদর্শ মোতাবেক কাজ কর্ম পরিচালনা করবেন এবং তার শাসনামলে ইসলাম সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে। তিনি সাত বছর অবস্থান করবেন। তারপর ইন্তেকাল করবেন এবং মুসলমানগন তার জানাযা পড়বে”। ( আবু দাঊদ)

মেশকাত শরীফের এই হাদীসটি আবু দাউদ হতে সংগৃহিত। মেশকাত শরীফ আলাদা কোন হাদীস গ্রন্থ নয়। মেশকাত শরীফ হল বিষয়ভিত্তিক হাদীস গ্রন্থের সমষ্টি। যেমন ধরেন সালাত/নামায নিয়ে বিভিন্ন হাদীস গ্রন্থে যত হাদীস আছে মেশকাত শরীফের নামায অধ্যায়ে আপনি বিভিন্ন হাদীসের কিতাবের নামায সম্পর্কিত সকল হাদীস গুলি পাবেন। তাই বলা হয় মেশকাত শরীফ পড়লে আপনি এক সাথে অনেক গুলি হাদীস গ্রন্থ পড়ে ফেললেন। যাই হোক উপরোক্ত হাদিস হতে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে খিলাফত প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর কে খলিফা হবে এই মতবিরোধের মাঝে ইমাম মাহদির আগমন ঘটবে। তাফসীরে মা আরেফুল কোরআনে ইমাম মেহেদীকে সর্বশেষ খলিফা বলা হয়েছে। মূলত ইমাম মেহেদীর আগমনের পর খিলাফতের সমাপ্তি ঘটবে। তাই ইমাম মাহদি এসে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করবেন এটা সম্পূর্ন একটা ভুল ধারনা। আর ইমাম মেহেদী আসার কিছুদিন পরেই দাজ্জালের আগমন ঘটবে। এরপর দাজ্জাল কে হত্যা করার জন্য হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম এই পৃথিবীতে আবার আসবেন। অর্থ্যাৎ ইমাম মেহেদীর আগমন হবে কিয়ামতের খুব সন্নিকটে। এগুলি ঘটতে এখনি অনেক দেরী। মুসলিম বিশ্বে কোন দুর্যোগ সাধারনত একটানা ১০০ বছরের বেশি থাকে না। চেঙ্গিস খানের তাতারী ফেতনাটাও ১০০ বছরের মাঝে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। যেহেতু ১৯২৪ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে উসমানীয় খিলাফতের বিলুপ্ত ঘটেছে তাই আশা করা যায় যে ইনশাল্লাহ ২০২৪ সালেই আবার মুসলিম বিশ্বের কোন না কোন প্রান্ত থেকে খিলাফত শুরু হয়ে যাবে। তাই আমাদের উচিত ইমাম মেহেদীর আশায় বসে না থেকে যার যার তরফ থেকে আবার খিলাফত রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করা।

বর্তমান পৃথিবীতে অনেক গুলি মুসলিম দেশ রয়েছে। কোন মুসলিম দেশের শাসক যদি নিজেকে খলিফা হিসাবে ঘোষনা করে এবং উনি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের দায়িত্ব নিতে রাজি হয় এবং উনি যদি বলেন আমার শাসনাধীন ভু-খন্ড সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য তাইলে উনাকেই আমরা খলিফা হিসাবে মেনে নিয়ে বাইয়াত দিব।

খিলাফত যে আবার আসবে এই ব্যাপারে মুসনাদে আহমদে  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি প্রসিদ্ধ হাদিস রয়েছে। সেইখানে বলা হয়েছে- " তোমাদের মধ্যে নব্যুয়ত থাকবে যতক্ষন আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ইচ্ছা করেন; তারপর তিনি তার সমাপ্তি ঘটাবেন; তারপর প্রতিষ্ঠা হবে নব্যুয়তের আদলে খিলাফত। তা তোমাদের মধ্যে থাকবে যতক্ষন আল্লাহ সুবহানাতায়ালা ইচ্ছা করেন; তারপর তিনি তার সমাপ্তি ঘটাবেন; তারপর প্রতিষ্ঠা হবে বংশীয় শাসন। এরপর আল্লাহর ইচ্ছায় এরও সমাপ্তি হবে। তারপর প্রতিষ্ঠিত হবে জুলুমের রাজত্ব এবং তা তোমাদের উপর থাকবে যতদিন আল্লাহ ইচ্ছা করেন। এরপর আবার আসবে নব্যুয়তের আদলে খিলাফত। " এই হাদিস অনুসারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সকল ভবিষ্যত বাণীই বাস্তবে সংঘঠিত হয়ে গেছে। যেমন এখন আমরা আছি জুলুমের রাজত্বে এবং আশা করছি এই জুলুমের রাজত্বের পর অতিশীঘ্র আমাদের মাঝে নব্যুয়তের আদলে খিলাফত ব্যবস্থা ফিরে আসবে। 

শুধু তাই নয় খিলাফত যে আবার আসবে  এ নিয়ে আরো হাদীস রয়েছে। যেমন 
ইবনে আসাকির-এর “দামেস্কের ইতিহাস” গ্রন্থে ইউনুস ইবনে মায়সারা ইবনে হালবাস হতে বর্ণিত, هذا الأَمْرُ كائن بَعْدِي بِالْمَدِيْنَة ثُمَّ بِالشام ثُمَّ بِالْجَزِيْرَة ثُمَّ بِالْعِراق ثُمَّ بِالْمَدِيْنَة ثُمَّ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ فَإِذَا كَانَ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ فثم عقر دارها وَلَن يخرجها قَوْم فتعود إِلَيْهِمْ أَبَدا রাসূল (সা) বলেন, এই শাসন ব্যবস্থা (খিলাফত) আমার পর থাকবে মদীনায়, তারপর আল-শামে, তারপর আরব উপদ্বীপে, তারপর ইরাকে, তারপর (হীরাকলের) শহরে, তারপর বায়তুল মাকদিসে (আল-কুদ্স) এবং যখন আল-কুদ্সে প্রতিষ্ঠিত হবে তখন সেটাই হবে তার স্থান। এরপর লোকেরা (কেউ) তা কখনো বের (পরিবর্তন) করে দিতে পারবে না এবং তা চিরকালের জন্য তাদের কাছে ফিরে আসবে। পূর্ববর্তী খলীফাদের সময়ে এই উম্মাহ্ খিলাফতের রাজধানী দেখেছে মদীনায়, আল-শামে, ইরাকে ও (হীরাকলের) শহরে অর্থাৎ তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। ইনশাল্লাহ আবার যখন খিলাফত ফিরে আসবে তখন তার রাজধানী হবে আল-কুদ্স অর্থ্যাৎ জেরুজালেম শহরে।  ইবনে সাদ ও কানজুল উম্মাল ১৪/২৫২ এর গ্রন্থকার উভয়ে আবু উমায়রা আল মাযানী হতে বর্ণনা করেন, রাসূল (সা) বলেছেন, تَكُوْنُ فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ بَيْعَة هدى বায়তুল মাক্দিসে একটি হেদায়েতপূর্ণ আনুগত্যের শপথ নেয়া হবে। ইমাম আহমদ তার মুসনাদ (৫/২৮৮), আবু দাউদ তার সুনান (নং ২৫৩৫) এবং হাকিম তার আল-মুসতাদরাক গ্রন্থে বর্ণিত হাদীসে বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, يَا ابْنَ حَوَالَةَ، إِذَا رَأَيْتَ الْخِلَافَةَ قَدْ نَزَلَتْ أَرْضَ الْمُقَدَّسَةِ فَقَدْ دَنَتْ الزَّلَازِلُ وَالْبَلَابِلُ وَالْأُمُورُ الْعِظَامُ وَالسَّاعَةُ يَوْمَئِذٍ أَقْرَبُ مِنْ النَّاسِ مِنْ يَدِي هَذِهِ مِنْ رَأْسِكَ হে ইবন হাওয়ালা, যখন তুমি দেখবে খিলাফত পবিত্র ভূমিতে (আল-কুদস) ফেরত এসেছে তখন ভূমিকম্প, দুর্যোগ ও এরূপ বিশাল ঘটনা অনিবার্য হয়ে পড়বে। আর তখন কিয়ামত মানুষের ততটুকু কাছে চলে আসবে আমার এই হাত থেকে তোমার মাথার দুরত্ব যতটুকু। [রাসূল (সা) এই হাদীসটির বর্ণনাকারী সাহাবী আবদুল্লাহ বিন হাওয়ালার মাথা/কপালে হাত রেখে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছিলেন।] ইমাম আহমদ তার মুসনাদে (২/১৭৬), আল দারিমি তার মুসনাদে (অধ্যায় ১, পৃষ্ঠা ১২৬) ও আল হাকিম তার আল মুসতাদরাক (৩/৪২২) এ আবু কাবিল হতে বর্ণনা করেন, ... سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْمَدِينَتَيْنِ تُفْتَحُ أَوَّلًا قُسْطَنْطِينِيَّةُ أَوْ رُومِيَّةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَدِينَةُ هِرَقْلَ تُفْتَحُ أَوَّلًا يَعْنِي قُسْطَنْطِينِيَّةَ ... রাসূলুল্লাহ (সা)-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, “কোন শহরটি আগে জয় করা হবে, কনস্ট্যানটিনোপোল নাকি রোম?” রাসূল (সা) বললেন, ‘হীরাকলের নগরী প্রথম জয় করা হবে’ অর্থাৎ কনস্ট্যানটিনোপোল। হাদীসে উল্লেখিত প্রথম বিজয়টি ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে। কনস্ট্যানটিনোপোল অর্থ্যাৎ তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইসলামের অধীনে এসেছে উসমানীয় সুলতান মুহাম্মদ আল ফাতেহ-এর আমলে ১৪৫৩ সালে। রাসূল (সা)-এর ভবিষ্যৎবাণীর ৮০০ বছর পর এ বিজয় অর্জিত হয়। আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী খিলাফত ইতালির রাজধানী রোমও বিজয় করবে  সেটাও বেশি দূরে নয়। সার্বিক আলোচনায় এটা স্পষ্ট যে, খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টি মুতাওয়াতির বিল মা’না [বহু সংখ্যক শুদ্ধ বর্ণনা] হাদীস দ্বারা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত। এক হিসেবে দেখা যায়, খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠাসংক্রান্ত হাদীসসমূহ অন্তত ২৫ জন সাহাবী, ৩৯ জন তাবেয়ী ও ৬২ জন তাবে-তাবেয়ী দ্বারা বর্ণিত হয়েছে। তাই খিলাফতের পুনরাগমন শরীয়াতের অকাট্য দলিল দিয়ে প্রমাণিত বিষয়।

একটু চিন্তা করে দেখুন কত বড় বড় সাহাবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবিত থাকা অবস্থায় শহীদ হয়েছিলেন। ঐ সকল সাহাবীরা কিন্তু ইরাক ইরান মিশর সিরিয়া তুরস্ক এই দেশ গুলি মুসলমানদের বিজিত আকারে দেখে যেতে পারেননি। কিন্তু তাই বলে কি ঐ সকল সাহাবীরা খন্দক যুদ্ধের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঐ দেশ গুলি বিজয়ের ভবিষ্যতবাণী কে অস্বীকার করেছিলেন ? না কখনই করেননি। মক্কী ও মাদানী জীবনে সকল সাহাবী খুব কষ্ট করে চললেও উনারা কিন্তু ঠিকই ইসলামের ভবিষ্যত বিজয় সম্পর্কে পুরাপুরি আস্থাশীল ছিলেন। ঠিক তেমনি আমাদের এখনকার মুসলমানদের ভবিষ্যত খিলাফত আসার ব্যাপারে ও সামনে আমাদের মুসলমানদের আবার ভাল সময় আসবে এই ব্যাপারে আশা রাখা উচিত। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা কখনই মুসলমানদের কে দীর্ঘ সময়ে কষ্টে রাখবেন না। তাই আবার যে খিলাফত আসবে এবং আমরা মুসলমানরা আবার একসাথে কেন্দ্রীয় ভাবে একজন খলিফার অধীনে থাকবো এতে কোন সন্দেহ নাই। 


তথ্যসুত্রঃ
www.liberatedthought.blogspot.com

মোবাইল থেকে এই নোট টি শেয়ার করতে চাইলে এই লিংকে Click করুন

ইসলামী আক্বীদা সংশোধনের জন্য আরো পড়তে পারেন 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বহু বিবাহ প্রসঙ্গে ইসলাম বিদ্বেষীদের সমালোচনার জবাব

আল্লাহ সুবহানাতায়ালার অস্তিত্ত্বের একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমান

আল কোরআনের ব্যাকরণগত সৌন্দর্য্যের কিছু অসাধারন দিক


বনী কুরায়জা গোত্রের সকল পুরুষ ইহুদি হত্যা করা প্রসঙ্গে একটি পর্যালোচনা

ইসলামি শরীয়াহ কি কখনই দাস দাসী প্রথাকে সমর্থন করেছিল
আমাদের মুসলমানদের কেন একটি কেন্দ্রীয় খিলাফত রাষ্ট্র প্রয়োজন ?

হাতের কাছে রাখার মত কয়েকটি চমৎকার ইসলামী বই

হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম ২য় পর্ব

মেসওয়াক করার ফযীলত

আমার উম্মতের মাঝে ৭৩ টি দল হবে এদের মাঝে মাত্র একটি দল জান্নাতে যাবে" এই হাদীস টির মূল ব্যাখ্যা টি কি ?

সিজদায়ে সাহু সংক্রান্ত মাসলা-মাসায়েল

সহিহ শুদ্ধ ভাবে নামায পড়ার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় মাস

মার্ক জুকারবার্গ তো একজন নাস্তিক তাইলে তার আবিস্কৃত ফেইবুক ব্যবহার করা কি আমাদের জন্য ঠিক হচ্ছে ?


comt.কি উমাইয়া কি আব্বাসীয় কি উসমানীয় খিলাফত প্রত্যেকটা খিলাফত কালীন সময়ে আমরা মুসলমানরাই সারা পৃথিবী শাসন করছি। তখন আমাদের মেয়েদের দিকে কেউ চোখ তুলে তাকাতে পারত না। সারা পৃথিবী তখন আমরাই চালাতাম। আর আজকে আমরা মুসলমানরা নিজেদের দেশ গুলিকেই দখল রাখতে পারছি না। ইরাক আফগানিস্তান ফিলিস্তিন আজকে কতদিন ধরে বিধর্মীদের দখলে। আমাদের পাশের দেশ বার্মায় বৌদ্ধ ভিক্ষুরা রোহিংগা মুসলমানদের উপর কি অত্যাচারটাই না করছে। কিন্তু আমরা বাংলার মুসলমানরা একদম চুপ করে বসে আছি। কিন্তু বার্মার সাথে জিহাদ করা আমাদের জন্য ফরয। আফসোস খিলাফত বিহীন মুসলিম উম্মাহ কতই না অসহায়।
 comt.শ্রীবিনয় ঘোষ উনার ভারতজনের ইতিহাস গ্রন্থের ২৭৭ নং পৃষ্ঠায় বলেছেন সিন্ধুর রাজা দাহির মুহাম্মদ বিন কাসিমের কাছে পরাজিত হয়েছেন এই কথা শোনার সাথে দাহিরের রাজপ্রাসাদের সকল নারী আগুনে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। যেইখানে সিন্ধুর রাজা দাহিরের রাজপ্রাসাদের সকল নারী যুদ্ধের পর নিজেরাই আত্মহত্যা করে ফেলল সেইখানে মুহাম্মদ বিন কাসিম এত তরুনী পাবে কোথায় ? আর দাহিরের পুত্র জয়সীমাহ মুসলমান হয়ে যান। কিন্তু সিন্ধুর সাধারন জনগন তেমন একটা মুসলমান হয় নি। আর আপনাদের হিন্দু ঐতিহাসিকদের বর্ণিত ইতিহাস গ্রন্থেই বলা আছে যে মুসলমানরা ভারত জয় করার পর সকল হিন্দু প্রজাকে জিম্মি ঘোষনা করে শুধুমাত্র হিন্দুদের কাছ থেকে জিজিয়া কর আদায় করতো কোন হিন্দুকেই দাস দাসী বানায় নি। সিন্ধু বিজয়ের পর মুহাম্মদ বিন কাসিম শুধু একবার ও এটাই উনার শেষবার হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সাথে দেখা করতে গিয়েছিল। এরপর আর মুহাম্মদ বিন কাসিম ভারতে ফিরে আসেননি। আর মুহাম্মদ বিন কাসিমের এই সিন্ধু ত্যাগের সময়ে উনার সাথে মাত্র কয়েকজন ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ছিল কোন ৩ লাখ দাস দাসী নিয়ে নয়। আর মুহাম্মদ বিন কাসিম ভারতের মন্দিরের সেবাদাসী প্রথা উচ্ছেদ করেন। আপনাদের অনেক বড় বড় হিন্দু ঐতিহাসিক মুহাম্মদ বিন কাসিমের উচ্ছসিত প্রশংসা করেছে। আর ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ছিল একজন তাবেঈন। আর মুসলমানরা কোন দেশ জয় করার পর সাথে সাথে ঐ দেশের বিধর্মী নাগরিকদের জিম্মি ঘোষণা করতো। আর জিম্মিদের কখনো দাস দাসী বানানো যায় না জিম্মিদের কাছ থেকে শুধু জিজিয়া কর নেয়া যায়। আপনার এই সব মিথ্যা কথা বলা বন্ধ করেন। ইব্রাহিম লোদী মুহাম্মদ ঘোরী সুলতান মাহমুদ বাদশাহ বাবর এইসব মহান সুলতানরা ভারত জয় করার পর হিন্দুদের সাথে যেই আচরন করেছিল এর ১০০ ভাগের ১ ভাগও এখনকার ভারতের কংগ্রেস বিজেপীরা ভারতের মুসলমানদের সাথে করে না। আমরা মুসলমানরা দীর্ঘ ৮০০ বছর ভারত শাসন করেছি। আমরা মুসলমানরা চাইলে আজকে ভারতে একটা হিন্দুও থাকতো না।

comt. সবাই দয়া করে এই NOTE টা একটু Share করে ভবিষ্যত প্রজন্ম কে এই কুফরি গনতন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করেন। গনতন্ত্র রাজতন্ত্র সামরিক সরকার মুসলিম বিশ্বকে কি দিয়েছে তা আমরা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি..

comt. "ওমান মাতা ওলাইসা ফি উনুকিহি বাইয়াতুন মাতা মাইতাতান জাহেলিয়াহ"(মুসলিম)
"যে বাক্তি এমন অবস্থায় মৃত্যু বরন করলো যে, তাঁর কাঁধে (কোন খালিফার) বাই' আত নাই , সে যেন জাহেলির মরন মরল।
এটা মুসলমান দের ইমানের দাবি(direct hukum) যে তারা বায়াহ দিবে। শরিয়াহ আইন প্রত্যেক সময় এবং সকল জুগের জন্য। বাস্তবসম্মত কিনা সেই প্রশ্নটা নিজের প্রবৃত্তি বা ইচ্ছা দ্বারা হলে হবে কিভাবে?, বরঞ্ছ শারিয়াহ আমাকে কি বলসে তা আমাকে মানতে হবে ।
আপনি যদি আল্লাহ্‌র রাসুলের সিরাহ পরেন উত্তরতা পেয়ে যাবেন, যখন মাদিনায় ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল কিছু মুসলিম কিন্তু মক্কায় তখনও ছিল, তারা কিন্তু রাসুল(সা) কে আনুগত্য করে ছিল, পরবরতিতে মক্কা বিজয় হয়। এবং তা ইসলামিক রাষ্ট্রের অধিনে আইসা পরে (by military force).
বাংলাদেশ কি সে দায়িত্ব(অন্য মুসলিম দেশের ) নিতে পারবে কি পারবে না, এর জন্নে কি প্রত্যেক মুসলিমের আপনার কি মনে হয় হাত গুটায়া বসে থাকতে হবে, যেটা এখন দরকার শরিয়াহ নিয়ম অনুযায়ী খিলাফাহ establish করা যা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ। এতাই আমদের করতে হবে।
যখন বদর যুদ্ধে সাহাবীরা ভয় পাছিল্লেন, তখন আল্লাহ্‌র রাসুল দু আ করেছিলেন আল্লাহ্‌র কাসে, আল্লাহ তাদের হাজার ফেরেস্তা দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। সাহাবীরা (রা) শরিয়াহ্র নিয়ম অনুযায়ী জুদ্ধের ময়দানে নেমেছিলেন, এতাই তাদের দায়িত্ব ছিল, ঠিক আমাদের যেটা এখন দায়িত্ব তা করতে হবে , সেভাবে আল্লাহ ও আমাদের সাহায্য করবেন।


comt. ভাই উপরে দেওয়া ছিল, মুসলিম শরীফ খুইলা (সিয়াসিয়াহ(রাজনিতি) অংশে দেখেন),
ভাই সাহাবীদের মত পর্যাপ্ত ইমান আমার আসে কিনা এটা জিজ্ঞেস করলেন?? নাকি আপনার ইমানের কথা জিজ্ঞেস করলেন?? ভাই তাইলে আমারে ইমান মাপার একটা যন্ত্র দেন আমি মাইপা লই দেহি ইমান কার কত দুর্...
আল্লাহ আমাদের চেষ্টা করতে বলেসেন (পর্যাপ্ত ইমান আসে নাকি নাই এই প্রশ্ন করতে বলেন নাই) যা
নূর ৫৫ নং আয়াতে আল্লাহ বলে দিয়েছেন,
“তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে খিলাফত দান করবেন। যেমন তিনি খিলাফত দান করেছেন তাদের পূর্ববতীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের ধর্মকে, যা তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি দান করবেন। তারা আমার ইবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। এরপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে, তারাই অবাধ্য।” [আন-নুরঃ৫৫]

আল্লাহ্‌র রাসুলের (সা) হাদিসঃ
"সুম্মা তাকুনু আ'লা খিলাফাতান মিনহাজিন নবুয়াহ"
"আবার আসবে নবুয়াহর আদলে খিলাফাহ "
আল্লাহ র রাসুল (সা) বলেছেনঃ
"ইসলাম এসছে আগন্তুক(গুরাবা) দ্বারা, ইসলাম আবার চলে যাবে ইসলাম আবার আসবে আগন্তুকের(গুরাবা) দ্বারা। সেইসব অপরিচিত দের glad tidings"
allahr rasul(sa) নিজে বলেছেন আবু দাউদেঃ
"তাদের ইমান হবে সাহাবীদের(রা) ইমানের থেকে চল্লিশ গুন বেশী"।
আল্লাহ আমাদের গুরাবাদের মত মর্যাদা দান করুন। আমিন

আর খিলাফাতের ধ্বংস তা হয়েছিল বিশেষত
১।মুসলিমদের আকিদা থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারনে যা (intellectual decline) কারনে।
২।মুসলিমরা তাদের আকিদা ইস্যুতে গ্রিক ফিলসোফি র যুক্তির ব্যবহার করেছিল


comt. খিলাফাতের সরকারের একটা গঠন কাঠামো আসে, যেখান থেকে এটা প্রতিষ্ঠা হবে সেখান থেকে শাসনকার্জ চালান হবে, আর ভিভিন্ন দেশের অংশে উলাইহা(গভর্নর) থাকবেন। তারা খালিফার আনুগত্য করবেন এবং আল্লাহ্‌র বিধান অনুসারে আমাদের পরিচালিত করবেন।
যদি খিলাফাহ কোন আরব দেশে আইসা থাকে অথবা অনারব দেশে আসে , রাষ্ট্র ভাষা আরবি ই থাকবে। একটা কথা বলে নেওয়া প্রয়োজন ইসলাম কখনও মানুশকে কোন কিছু চাপাইয়া দেয় না। দেখেন এই পৃথিবীতে অন্যতম একটা ভাষা আসে এই উপমহাদেশের জন্নে, যেটা হল, মানুষ হর হর কইরা পরতে পারে কিন্তু এর meaning জানে না, সেটা হইল আরবি। কারন কি জানেন ?। ছোটবেলা থেকে আমরা শিখি A টে apple, B টে... ball........কিন্তু আমরা কেন আলিফ টে ..." ", ...বা টে ..." " জানি না কেন। কারন আমাদের culture করা হইসে এমন কইরাই, so খিলাফাহ আসলে আমাদের culture করা হবে....