"আমার উম্মতের মাঝে ৭৩ টি দল হবে এদের মাঝে মাত্র একটি দল জান্নাতে যাবে" এই হাদীস টির মূল ব্যাখ্যা টা কি ?
27 July 2012 at 12:27
"আমার
উম্মতের মাঝে ৭৩ টি দল হবে এদের মাঝে মাত্র একটি দল জান্নাতে যাবে"
তিরমীযি শরীফে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই
হাদীস টিকে আমরা অনেকেই ব্যাখ্যা হিসাবে এরকম ভাবে বলি থাকি যেমন যারা
তাবলীগ জামাত করে তারা বলে তারাই হল সেই হকপন্থী দলটি যাদের কথা উক্ত
হাদীসে বলা হয়েছে। আবার যারা জামাত শিবির করে তারা অনেকেই ভাবে যে তারাই
হল সেই মুক্তিপ্রাপ্ত দলটি আর বাকী ইসলামী দল বা গোষ্ঠী গুলি সেই অভিশপ্ত
৭২ দলের মাঝে পড়েছে।এরকম ভাবে প্রত্যেকে যে যে ইসলামী দল করে তারা ভাবে একমাত্র তারাই হল হাদীসে উল্লেখিত সেই মুক্তিপ্রাপ্ত দল টি। আসলে উপরোক্ত হাদীস টির মূল ব্যাখ্যা বা শরাহ না জানার কারনে আমাদের মাঝে অনেক বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ঐ হাদীসে যে হকপন্থী দলটির কথা বলা হয়েছে এটা হল আক্বীদার ক্ষেত্রে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত যেটা আমাদের সকল মুসলিমদের আক্বীদা। আর যে অভিশপ্ত ৭২ দলের কথা বলা হয়েছে তারা হল রাফেজী, শিয়া, মুতাজিলা, খারেজী, কাদিয়ানী প্রমুখ যে দল গুলি ইসলামের মূল আক্বীদা থেকে সরে গিয়ে অভিশপ্ত হয়েছে। মূলত তাবেঈনদের যুগ থেকে ইসলামের মূল আক্বীদা থেকে সরে গিয়ে অনেক অনৈসলামিক আক্বীদার উদ্ভব হয়েছিল যারা পরে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে গিয়েছিল। তারাই হল সেই ৭২ দলের মাঝে অন্তর্ভুক্ত। আপনি যেই দেশের অধিবাসী হন, রাজনৈতিক ভাবে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামাত শিবির হিযবুত তাহরীর, চরমোনাইর পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, মুফতি আমীনের ইসলামী ঐক্যজোট যে কোন দলই করেন না কেন বা যে মাযহাব অনুসরন করুন বা লা মাযহাবী হন অর্থ্যাত্ আহলে হাদীস, সালাফী হন না কেন আপনি যদি আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আক্বীদা কে Support করেন তাইলে আপনি অবশ্যই একজন মুসলিম ও উপরোক্ত হাদীসে উল্লেখিত সেই একমাত্র মুক্তিপ্রাপ্ত দলটির মাঝে অন্তর্ভুক্ত হবেন।এখন আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আক্বীদার আক্বীদা টা কি ? কোন মুসলমানের মাঝে নিম্নলিখিত গুণ গুলি থাকলে সে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অন্তর্ভুক্ত বলে গন্য হবে।
১. কোন সাহাবীর সমালোচনা না করা এবং এমন আলোচনাও না করা যার দ্বারা কোন সাহাবীর মর্যাদা ক্ষূণ্ণ হয়।
২. নিজের ঈমানের উপর কখনো সন্দিহান না হওয়া।
৩. ইসলামী সরকারের বিরুদ্ধে কোন প্রয়াস না চালানো।
৪. ভাল মন্দ যা কিছু হয় তা সব আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয় এবং তাকদীরের উপর বিশ্বাস রাখা।
৫. কোন মুসলমান কে কাফের না বলা।
৬. কোন মুসলমান মারা গেলে তার জানাযার নামায পড়া।
৭. জান্নাতে মুসলমানরা আল্লাহকে দেখতে পাবে এই আক্বীদায় বিশ্বাস করা।
৮. একমাত্র আল্লাহই গায়েব/ভবিষ্যত্ জগতের খবর জানেন।
৯. ইসলাম ব্যতীত জাহান্নাম থেকে মুক্তি অসম্ভব।
১০. কবরবাসী থেকে সাহায্য প্রার্থনা করা শিরক।
১১. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মিরাজ স্বশরীরে সংঘঠিত হয়েছে।
১২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরপর আর কোন নবী আসবে না।
১৩. তিন খোদার দাবীদার এবং আল্লাহর পুত্র আছে বলে যারা দাবী করে তারা কাফের। ঈসা আলাইহিস সাল্লাম ৪র্থ আসমানে জীবিত আছেন, উনি কেয়ামতের পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একজন উম্মত হিসাবে আবার পৃথিবীতে আসবেন এটা বিশ্বাস করা।
১৪. সকল নবী রাসূলরা নিস্পাপ এবং সকল নবীদের মুজেযা সত্য। সকল নবী রাসূলের উপর ঈমান আনতে হবে।
১৫. ওলী আউলিয়াদের কারামত সত্য তবে ওলী আউলিয়ারা সাহাবী রাযিআল্লাহু আনহুদের পর্যায়ভুক্ত নন।
১৬. কবরের আযাব সত্য, স্বশরীরে পুনরুথ্থান সত্য, মিযান পুলসিরাত সত্য।
১৭. হাশরের মাঠে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুপারিশ বা শাফায়াত ছাড়া কোন মুসলমান জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না এটা বিশ্বাস করা। এখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে অভিশপ্ত ৭২ দলের কথা বলেছেন তাদের সম্পর্কে একটু আলোচনা করবো। প্রথমেই মুতাজিলা:- মুতাজিলারা বিশ্বাস করে জান্নাতে আল্লাহকে দেখা যাবে না। মুতাজিলারা কবরের আযাব কে বিশ্বাস করে না।
শিয়া:- এরা মোট ২২ টি উপদলে বিভক্ত। শিয়াদের মধ্যে একমাত্র যাইদিয়া সম্প্রদায় ছাড়া আর সকল সম্প্রদায় অনেক সাহাবীদের সম্পর্কে কুধারনা পোষণ করে। খারেজী:- এরা হযরত আলী রাযিআল্লাহু আনহুকে কাফির বলে। খারেজীদের মতে কোন মুসলমান কবীরা গুনাহ করলেই সাথে সাথে সে কাফির হয়ে যায় নাউযুবিল্লাহ এ মতবাদে বিশ্বাস করে।
মুরাজিয়া:- এদের আক্বীদা হল কাফেররা যেমন নেক আমল দ্বারা জান্নাতে যেতে পারবে না ঠিক তেমনি মুসলমানরাও কোন কবিরা গুনাহের কারনে জান্নাতে যেতে পারবে না।
নাজারিয়া:- এরা আল্লাহ সুবহানাতায়ালার অনাদি বা আজালী সত্ত্বায় বিশ্বাস করে না। এরা বলে কোরআন নাকি সৃষ্ট হয়েছে। জাবরিয়া:- এদের আক্বীদা হল বান্দার কোন কাজ করার ইচ্ছা শক্তিটুকু পর্যন্ত নাকি নাই।
বাহাই ও কাদিয়ানী:- এরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে শেষ নবী বলে স্বীকার করে না। এরকম আরো বহু বিভ্রান্ত আক্বীদার অধিকারী ইসলামের মাঝ থেকে বের হয়ে গেছে। কিয়ামতের আগ পর্যন্ত এরকম আরো বহু বাতিল চিন্তা ধারা মুসলমানদের মাঝে অনুপ্রবেশ করবে। আল্লাহ সুবহানাতায়ালা আমাদের সবাইকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আক্বীদা কে শক্ত ভাবে আমৃত্যু ধরে রাখার তওফীক দিক। আমিন।
তথ্যসূত্রঃ
[শাহ ওয়ালী উল্লাহ রহমাতুল্লাহ আলিইহির হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ খ: ১ পৃ: ১৭০, ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহমাতুল্লাহ আলাইহির ‘‘মিনহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ’’ আব্দুল কাদের জিলানী রহমাতুল্লাহ আলিহির ‘গুনিয়াতুত তালেবীন’ ]
মোবাইল থেকে এই নোট টি শেয়ার করতে চাইলে এই লিংকে Click করুন
উম্মতে মুহম্মদী বাহাত্তর ফেরকা বাতিল, গোমরাহ্ ও জাহান্নামী কেন? =================== Muhammad Abdullah
ইসলামী শরীয়ত জরুরত আন্দাজ আক্বীদা সম্পর্কিত ইলম অর্জন করাকে ফরজ করেছে। কারণ ঈমান তথা আক্বীদাই হচ্ছে দ্বীন ইসলামের মূল এবং প্রধানতম ভিত্তি। যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি। প্রথমেই হচ্ছে, (১) সাক্ষী দেয়া যে আল্লাহ্ পাক ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই এবং হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ পাক-এর বান্দা ও রসূল, অতঃপর (২) নামাজ, (৩) যাকাত, (৪) হজ্ব এবং (৫) রমজান শরীফের রোজা।” (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত ইত্যাদি) সুতরাং যদি ঈমান তথা আক্বীদাই শুদ্ধ না থাকে তবে নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি আমলসমূহ সম্পুর্ণই মূল্যহীন। আর তাই মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কালামুল্লাহ্ শরীফে এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীস শরীফে ঈমানের ব্যপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। আর অনুস্বরণীয় ইমাম-মুজতাহিদহণ ঈমান তথা আক্বীদা সম্পর্কিত বিষয় সমূহ গুরুত্ব সহকারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। যেমন মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফের “সূরা আছরে” ইরশাদ করেন, “আছরের সময়ের কসম! নিশ্চয় সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্থের অন্তর্ভূক্ত। যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে তারা ব্যতীত।” অনুরূপ আরো অসংখ্য আয়াত শরীফ পবিত্র কুরআন শরীফে বিদ্যমান রয়েছে যাদ্বারা মূলতঃ এটাই বুঝানো হয়েছে যে, ঈমান তথা আক্বীদাই হচ্ছে মূল অর্থাৎ বিশুদ্ধ আক্বীদা ব্যতীত সমস্ত আমলই মূল্যহীন তাই ঈমান বা আক্বীদাকে আমলের “আছল” বলা হয়। কাজেই জান্নাত লাভ করতে হলে এবং জাহান্নাম থেকে নাযাত পেতে হলে মহান আল্লাহ পাক ও তাঁর রসূলসহ সকল বিষয় সহীহ্ বা বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করতে হবে। উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহ দ্বীন ইসলামের সকল বিষয়ে কিরূপ আক্বীদা পোষন করা জরুরী তা নির্ধারন করেছেন অনুস্বরনীয় ইমাম-মুজতাহিদগণ, বিশেষকরে হযরত ইমাম আবুল মানছুর মাতুরিদী রহমতুল্লাহী আলাইহি ও আবুল হাসান আশায়েরী রহমতুল্লাহী আলাইহি। এদের বর্ণিত আক্বীদা সমূহই “আক্বায়েদে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত” নামে অভিহিত। আর এ ব্যপারে সকলেই একমত যে যারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত-এর আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র তারাই হাদীস শরীফে বর্ণিত “নাজী” বা নাজাত প্রাপ্ত। আর যারা এর বিপরীত আক্বীদা পোষণ করবে (যদিও তা কোন একটি বিষয়েই হোক না কেন) তারা গোমরাহ্, বাতিল, জাহান্নামী। স্মর্তব্য যে, কুফরী আক্বীদায় যারা বিশ্বাসী তারা কস্মিনকালেও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভূক্ত হতে পারে না বরং তারা ৭২টি বাতিল ফের্কার অন্তর্ভূক্ত। মূলতঃ এ ধরণের কূফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী হওয়ার কারণেই উম্মতে মুহম্মদির মধ্যে ৭২টি বাতিল ও জাহান্নামী ফের্কার আবির্ভাব ঘটেছে। যদিও তারা প্রকাশ্যে কলেমাগো অর্থাৎ কালিমা শরীফ পাঠ করে থাকুক না কেন। এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “আমার উম্মত ৭২ দলে বিভক্ত হবে, একটি দল ব্যতীত বাহাত্তরটি দলই জাহান্নামে যাবে। তখন হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যে একটি দল নাযাত প্রাপ্ত, সে দলটি কোন দল? হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি এবং আমার সাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণের মত ও পথের উপর যারা কায়েম থাকবে (তারাই নাযাত প্রাপ্ত দল)।” ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইহা বর্ণনা করেন। আর মসনদে আহমদ ও আবূ দাউদের বর্ণনায় “হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, ৭২টি দল জাহান্নামে যাবে, আর একটি দল জান্নাতে যাবে। মূলতঃ সে দলটিই হচ্ছে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত।” (মেশকাত, মেরকাত, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, শরহুতত্বীবী, তা’লীকুছছবীহ, মোযাহেরে হক্ব, মিরয়াতুল মানাজীহ্, তানযীমুল আশতাত) উল্লিখিত হাদীস শরীফ দ্বারা মূলতঃ এটাই বুঝানো হয়েছে যে উম্মতে মুহম্মদী তথা “কালেমা গো মুসলমানই” ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, তন্মধ্যে ৭২টি দলই জাহান্নামী, গোমরাহ্ ও বাতিল, মূলতঃ তারা মুসলমানের অন্তর্ভূক্ত নয়। আর একটি মাত্র দল জান্নাতী, আর সেটা হচ্ছে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত। এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত মুহাদ্দিস, রঈসুল মুহাদ্দিসীন, ইমাম মুল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিখ্যাত কিতাব মিশকাত শরীফের শরাহ্ “মিরকাত শরীফ”-এর ১ম জিঃ ২৪৮নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন যে, “আবহুরী বর্ণনা করেন, নিশ্চয় (হাদীস শরীফে বর্ণিত) উম্মত শব্দ দ্বারা উম্মতে ইজাবত তথা “কালেমাগো”দেরকেই বুঝানো হয়েছে। অধিকাংশ আলেমগণের এটাই অভিমত। (উম্মতে ইজাবতের) প্রত্যেক দল জাহান্নামী…………. একদল ব্যতীত। হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ বললেন, সে দল কোনটি অর্থাৎ নাযাত প্রাপ্ত দল কোনটি? ……………….. হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি ও আমার সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণের মত ও পথে যারা কায়েম থাকবে (তারাই নাযাত প্রাপ্ত দল)………….. মূলতঃ উহার দ্বারা এটাই বুঝিয়েছেন যে, তারা হেদায়েতপ্রাপ্ত। আমার এবং আমার পর খুলাফা-ই-রাশেদীনগণের সুন্নত ধারণকারী। অতএব, এতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই যে, তারাই আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত। আর বলা হয়েছে যে, আক্বীদা, ক্বওল ও ফে’লের দিক থেকে তারা আমি ও সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণের অনুসারী হবে। এটা মূলতঃ ইজমা দ্বারা প্রমাণিত, ওলামায়ে ইসলাম যার উপর ইজমা করেছেন, সেটাই হক্ব। এছাড়া (অর্থাৎ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত ছাড়া) যা রয়েছে, সবই বাতিল।” উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখ্যায় “মিরকাত শরীফের” উক্ত স্থানে আরো উল্লেখ আছে যে, “জেনে রাখ! (উক্ত ৭৩টি দল) প্রধাণতঃ ৮টি দলে বিভক্ত, যা “মাওয়াক্বিফ” কিতাবে বর্ণিত রয়েছে- ১। মু’তাজিলাহ্………………. এরা বিশ(২০) দলে বিভক্ত, ২। শিয়া..…………………… এরা বাইশ(২২) দলে বিভক্ত, ৩। খারেজী………………….. এরা বিশ(২০) দলে বিভক্ত, ৪। মরজিয়্যাহ্…………..…….. এরা পাঁচ(৫) দলে বিভক্ত, ৫। নাজ্জারিয়্যাহ্……………….. এরা তিন(৩) দলে বিভক্ত, ৬। জাবারিয়্যাহ্……………….. এরা এক(১) দলেই রয়েছে, ৭। মুশাব্বেহা………………… এরাও এক(১) দলেই রয়েছে, সুতরাং উল্লেখিত ৭২টি দল, তারা প্রত্যেকেই জাহান্নামী। ৮। আর নাজিয়াহ্ বা নাযাতপ্রাপ্ত দল, তারা হলো- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর স্পষ্ট সুন্নত ও উজ্জ্বল তরীক্বতের অনুসারী। অর্থাৎ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত।” উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখ্যায় মিশকাত শরীফের শরাহ্ “তা’লীকুছ ছবীহ্” কিতাবের ১ম খন্ডের ১৩০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “উক্ত হাদীস শরীফে যে ৭২টি দলকে জাহান্নামী বলা হয়েছে সেই ৭২টি জাহান্নামী দল মূলে হলো ৬টি (১) খারেজী, (২) শিয়া, (৩) মু’তাজিলাহ্, (৪) জাবারিয়াহ্, (৫) মরজিয়্যাহ্, (৬) মুশাব্বেহা। অতঃপর খারেজী-১৫ দল, শিয়া-৩২ দল, মুতাজিলা-১২ দল, জাবারিয়্যাহ্-৩ দল, মরজিয়্যাহ্-৫ দল, মুশাব্বেহা-৫ দল। অনুরূপ খুলাছাতুল মাফাতীহ্ কিতাবে বর্ণিত আছে।” গাউছুল আযম, মুহবুবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, সাইয়্যিদুল আউলিয়া হযরত আব্দুল কাদির জ্বীলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর আলোড়ন সৃস্টিকারী ও নির্ভরযোগ্য কিতাব “গুনিয়াতুত্ তালেবীন”-এর ১৯৩ নং পৃষ্ঠায় লিখেন, “(হাদীস শরীফে বর্ণিত) ৭৩টি দল মূলতঃ ১০টি মূল দলের অন্তর্ভূক্ত, যার বিস্তারিত বর্ণনা নিম্নরুপঃ- ১। আহলে সুন্নত, ২। খারেজী, ৩। শিয়া, ৪। মু’তাজিলাহ্, ৫। মরজিয়্যাহ্, ৬। মুশাব্বেহা, ৭। জাহমিয়া, ৮। জেরারিয়াহ্, ৯। নাজ্জারিয়াহ্, ও ১০। কিলাবিয়াহ এগুলো হলো ১০টি বড় বা মূল দল, এগুলোর আবার বহু উপদল রয়েছে যেমন- ১। আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত………….… এরা ১ দল। ২। খারেজী……………………………………….….. ১৫ দল। ৩। মু’তাযিলাহ …………………………………….. ৬ দল। ৪। মরজিয়্যাহ……………………………………….. ১২ দল। ৫। শিয়া বা রাফেজী…………………………..…….৩২ দল। ৬। জাহমিয়্যাহ্……………………………………….. ১ দল। ৭। নাজ্জারিয়্যাহ………………………………………..
ইসলামী আক্বীদা সংশোধনের জন্য আরো পড়তে পারেন
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বহু বিবাহ প্রসঙ্গে ইসলাম বিদ্বেষীদের সমালোচনার জবাব
বনী কুরায়জা গোত্রের সকল পুরুষ ইহুদি হত্যা করা প্রসঙ্গে একটি পর্যালোচনা
ইসলামি শরীয়াহ কি কখনই দাস দাসী প্রথাকে সমর্থন করেছিল
আমাদের মুসলমানদের কেন একটি কেন্দ্রীয় খিলাফত রাষ্ট্র প্রয়োজন ?
হাতের কাছে রাখার মত কয়েকটি চমৎকার ইসলামী বই
হযরত ঈসা আলাইহিস সাল্লাম ২য় পর্ব
মেসওয়াক করার ফযীলত
আমার উম্মতের মাঝে ৭৩ টি দল হবে এদের মাঝে মাত্র একটি দল জান্নাতে যাবে" এই হাদীস টির মূল ব্যাখ্যা টি কি ?
আল্লাহ সুবহানাতায়ালার অস্তিত্ত্বের একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমান
সিজদায়ে সাহু সংক্রান্ত মাসলা-মাসায়েল
সহিহ শুদ্ধ ভাবে নামায পড়ার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় মাসলা
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন